সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সহপাঠ প্রশ্ন
কালু মিয়া নিজেকে একজন গণক হিসেবে দাবি করে। সে মানুষের হাত দেখে ‘ভাগ্য গণনা’ করে এবং কুদৃষ্টি কাটানোর নামে দামি আংটি ও অর্থ আদায় করে। তার স্ত্রী সালেহা বিয়ের প্রথম প্রথম চুপচাপ থাকলেও কিছুদিন পর কালু মিয়ার মিথ্যাচার ধরে ফেলে। সে এখন স্বামীর কোনো আদেশ মানে না, সবার সামনে স্বামীকে বিদ্রুপ করে।
- ক)(1)
“ওটা ছিল নিশানা, আনন্দের আর সুখের।” — ‘ওটা’ কী?
- খ)(2)
“রূপ দিয়া কী হইবে? মাইনষের রূপ ক-দিনের?” — বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সালেহা ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্র-তুল্য? কীভাবে?
- ঘ)(4)
“মজিদের শঠতা যতটা সুদূরপ্রসারী ও মনস্তাত্ত্বিক, কালু মিয়ার ধূর্ততা ততটাই বস্তুগত।” — উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যের সত্যাসত্য নির্ণয় কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘ওটা’ ছিল লালসালুতে আবৃত মোদাচ্ছের পীরের মাজারের ওপর স্থাপিত লাল কাপড়ের মাছের পিঠের মতো বাঁকানো রূপটি (অথবা লালসালুতে ঢাকা মাজারটি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে মানুষের বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্যের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং মজিদের কপট ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে।
‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ রহিমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জমিলাকে ঘরে তোলার যৌক্তিকতা বোঝাতে এ কথা বলেছিল। তার মতে, পার্থিব রূপ-যৌবন চিরস্থায়ী নয়; আজ আছে, কাল নেই। কিন্তু পরকাল ও খোদার এবাদত-বন্দেগিই আসল। মূলত সে তার ব্যক্তিগত কামনা ও দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্তকে ধর্মের আবরণ ও দার্শনিক বচনের আড়ালে বৈধতা দিতেই এই মন্তব্য করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সালেহা ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী ‘জমিলা’ চরিত্রের সাথে তুলনীয়।
‘লালসালু’ উপন্যাসে জমিলা অল্পবয়সী এক চঞ্চল ও মুক্তমনা তরুণী। মজিদের ঘরে স্ত্রী হয়ে এলেও সে মজিদের চাপিয়ে দেওয়া অন্ধ ধর্মীয় অনুশাসন, কঠোর গাম্ভীর্য ও কপটতাকে মেনে নিতে পারেনি। সে মজিদের ভয় ও ক্ষমতার জালকে গ্রাহ্য করেনি; বরং মজিদের ভণ্ডামির প্রতি অবজ্ঞা ও নীরব বিদ্রোহ প্রকাশ করেছে— মজিদের মুখে থুথু নিক্ষেপ পর্যন্ত করেছে।
উদ্দীপকের সালেহাও একইভাবে কালু মিয়ার প্রতারণা ও মিথ্যা গণকগিরি ধরে ফেলে স্বামীর বশ্যতা অস্বীকার করে এবং সবার সামনে স্বামীকে বিদ্রুপ করে তার অন্যায়ের প্রতিবাদ জানায়। অন্ধ আনুগত্যের পরিবর্তে শঠতার বিরুদ্ধে নির্ভীক প্রতিবাদের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে সালেহা চরিত্রটি লালসালুর জমিলার সমতুল্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“মজিদের শঠতা যতটা সুদূরপ্রসারী ও মনস্তাত্ত্বিক, কালু মিয়ার ধূর্ততা ততটাই বস্তুগত।” — উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য ও যথার্থ।
উদ্দীপকের কালু মিয়া একজন সাধারণ হাত গণক বা হাতুড়ে ভণ্ড। সে মানুষের ভাগ্য গণনা ও কুদৃষ্টি কাটানোর অজুহাতে আংটি বিক্রি করে এবং নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। তার এই প্রতারণার পরিধি অত্যন্ত সীমিত, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং সরাসরি বস্তুগত লাভের (টাকা ও আংটি) মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে কোনো গভীর দার্শনিক বা মনস্তাত্ত্বিক শেকড় নেই।
অপরদিকে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের শঠতা অত্যন্ত গভীর, সুদূরপ্রসারী ও মনস্তাত্ত্বিক। মজিদ একটি অপরিচিত গ্রামে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ বানিয়ে পুরো গ্রামের মানুষের মনোজগতে অপরাধবোধ ও খোদার গজবের চরম ভয় ঢুকিয়ে দেয়। সে ধর্মকে এমন এক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা দিয়ে মানুষের চেতনা, বিশ্বাস, সমাজব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। মজিদের লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক কিছু অর্থ নয়; বরং তার উদ্দেশ্য গ্রামীণ সমাজের ওপর চিরস্থায়ী মানসিক প্রভুত্ব ও কায়েমি আধিপত্য কায়েম রাখা।
অতএব, কালু মিয়ার শঠতা কেবল বস্তুগত প্রাপ্তির অগভীর স্তরে থাকলেও মজিদের শঠতা মানুষের মনকে পঙ্গু করে দিয়ে স্থায়ী আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী মনস্তাত্ত্বিক চক্রান্ত। কাজেই মন্তব্যটির সত্যতা প্রশ্নাতীত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও