সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। সে তার খালার বাসায় থেকে পড়ালেখা করছে। তার খালু একজন সরকারি চাকরিজীবী। একদিন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কবির তুমি কোন বিষয়ে পড়ালেখা করছো? কবির উত্তর দিল, আমি এমন একটি বিষয়ে পড়ালেখা করছি, যা মানুষের চালচলন, আচার-আচরণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে।
- ক)(1)
'সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান'- উক্তিটি কার?
- খ)(2)
ত্রয়স্তর সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজবিজ্ঞান সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ- উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত যুক্তিসহ আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান'- উক্তিটি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের (Émile Durkheim)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ত্রয়স্তর সূত্র (Law of Three Stages) হলো সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁত কর্তৃক মানব জ্ঞান ও সমাজের ঐতিহাসিক বিবর্তনের তিনটি পর্যায় সম্পর্কিত একটি তত্ত্ব।
কোঁতের মতে মানব জ্ঞান ও সমাজ তিনটি স্তর অতিক্রম করে বিকশিত হয়েছে:
১. ধর্মতাত্ত্বিক স্তর (Theological Stage): এ স্তরে মানুষ সকল পার্থিব ঘটনাকে অলৌকিক বা ঐশ্বরিক শক্তির ইচ্ছা বলে বিশ্বাস করত।
২. অধিবিদ্যাগত স্তর (Metaphysical Stage): এ স্তরে অলৌকিকতার বদলে বিমূর্ত ধারণা বা প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তির ওপর জোর দেওয়া হতো।
৩. দৃষ্টবাদী বা প্রত্যক্ষ স্তর (Positive/Scientific Stage): এ স্তরে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'সমাজবিজ্ঞান' (Sociology) বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান হলো মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়ন। এটি সমাজবদ্ধ মানুষের অতীত ইতিহাস, বর্তমান চালচলন ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সমাজের সামগ্রিক পরিবর্তনের রূপরেখা ব্যাখ্যা করে।
উদ্দীপকে কবির তার খালুকে জানায় যে সে এমন একটি বিষয়ে পড়াশোনা করছে যা 'মানুষের চালচলন, আচার-আচরণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে।' মানুষের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, আচরণিক বৈশিষ্ট্য এবং সমাজের বর্তমান অবস্থা বিচার করে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেওয়াই সমাজবিজ্ঞানের প্রধান আলোচ্য বিষয়। তাই কবিরের পঠিত বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞান সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ—উদ্দীপকের কবিরের বক্তব্যের আলোকেও এ মতামতটি সম্পূর্ণরূপে যুক্তিযুক্ত।
সমাজবিজ্ঞানের পূর্ণাঙ্গ পাঠ হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. সামগ্রিক সমাজের অধ্যয়ন: অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞান (যেমন অর্থনীতি শুধু অর্থ ও সম্পদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধু রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা) সমাজের আংশিক দিক নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু সমাজবিজ্ঞান সমাজবদ্ধ মানুষের জৈবিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যাবতীয় কর্মকাণ্ডের সমন্বিত পাঠ দেয়।
২. মানুষের আচরণ ও চালচলনের বিশ্লেষণ: উদ্দীপকে কবির যেমন বলেছে, সমাজবিজ্ঞান মানুষের দৈনন্দিন চালচলন, রীতিনীতি, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক আচরণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে।
৩. অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যোগসূত্র: সমাজবিজ্ঞান কেবল বর্তমানের স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করে না, বরং সমাজের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং এর ভিত্তিতে সামাজিক পরিবর্তন বা ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণ করে।
৪. সামাজিক সমস্যা ও সমাধানের দিকনির্দেশনা: সমাজবিজ্ঞানে সামাজিক স্তরবিন্যাস, অপরাধ, জনসংখ্যা সমস্যা, পারিবারিক ভাঙন ইত্যাদির কার্যকারণ অনুসন্ধান করে ইতিবাচক সমাধানের পথ দেখানো হয়।সুতরাং বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান কেবল খণ্ডিত কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং সমাজের রূপ, প্রকৃতি, বিবর্তন ও মানুষের সামগ্রিক জীবনধারার একটি সার্বিক ও বিজ্ঞানসম্মত পূর্ণাঙ্গ পাঠ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও