ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • ব্যবসায়ের মৌলিক ধারণা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
ভুটানে সমুদ্র বন্দর না.থাকায় বৈদেশিক বাণিজ্যে তারা পিছিয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী মি. রবিন বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করে এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভূটানে বিক্রয়ের জন্য প্রেরণ করে। এতে মি, রবিনের সাথে দেশও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
- ক)(1)
বৈদেশিক বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
মি. রবিন কোন ধরনের বাণিজ্য পরিচালনা করছেন?উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুই বা ততোধিক স্বাধীন সার্বভৌম দেশের বা তাদের অধিবাসীদের মধ্যে আইনসঙ্গতভাবে পরিচালিত পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয়কে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যবসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়, নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয় এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে জনগণের মাথাপিছু আয় ও সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়, সরকারের রাজস্ব বাড়ে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাই অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ও দেশের উন্নয়নে ব্যবসায় অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. রবিন বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্তর্ভুক্ত 'পুনররপ্তানি' (Re-export) বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।
বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তা সরাসরি অথবা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে পুনরায় রপ্তানি করাকে পুনররপ্তানি বাণিজ্য বলে। সাধারণত ভৌগোলিক সুবিধাবঞ্চিত বা সমুদ্রবন্দরহীন দেশের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের ব্যবসায়ীরা এ ধরনের বাণিজ্য পরিচালনা করে থাকেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিবেশী দেশ ভুটানে সমুদ্রবন্দর না থাকায় তারা বৈদেশিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়েছে। এই সুযোগে ব্যবসায়ী মি. রবিন সমুদ্রপথে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী আমদানি করেন এবং তা প্রক্রিয়াজাত করে ভুটানে বিক্রয় (রপ্তানি) করেন। এক দেশ থেকে আমদানি করে তৃতীয় দেশে রপ্তানি করার এই কার্যক্রমটি পুনররপ্তানি বাণিজ্যের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পুনররপ্তানি বাণিজ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য—উক্তিটি যথার্থ। নিম্নে এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পুনররপ্তানি বাণিজ্যে আমদানিকৃত পণ্যের সাথে প্রক্রিয়াজাতকরণ বা অতিরিক্ত উপযোগ যুক্ত করে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হয়। ফলে আমদানিমূল্যের চেয়ে রপ্তানিমূল্য বেশি হওয়ায় দেশ প্রচুর নিট বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বিদেশ থেকে পণ্য এনে তা প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, মান নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন ও বিতরণের জন্য বিপুল জনবলের প্রয়োজন হয়। ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়।
৩. বন্দর ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার: সমুদ্রবন্দর, সড়ক যোগাযোগ ও গুদামঘরের মতো জাতীয় অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, যা থেকে সরকার শুল্ক, বন্দর মাসুল ও কর বাবদ বিপুল রাজস্ব পায়।
৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন: সমুদ্রবন্দরহীন ল্যান্ডলকড (Landlocked) প্রতিবেশী দেশসমূহের (যেমন ভুটান) বাণিজ্যিক সংকট দূর করে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে দেশের ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকেও দেখা যাচ্ছে, মি. রবিনের এই উদ্যোগের ফলে তিনি যেমন ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দেশও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য পুনররপ্তানি বাণিজ্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও