সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
4.
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলন
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলন
ভূমিকা:
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের 'বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলন' এক অবিস্মরণীয় ও যুগান্তকারী অধ্যায়। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা সংস্কারের সাধারণ দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, অন্যায় এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত ত্যাগ, সাহস ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।
আন্দোলনের পটভূমি:
২০১৮ সালে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে উচ্চ আদালত সেই বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মেধার অবমূল্যায়ন ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে ১ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর ব্যানারে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে।
আন্দোলনের বিস্তার ও রূপান্তর:
শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা, সমাবেশ এবং 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন তৈরি হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির বিপরীতে সরকারের দায়িত্বশীল মহলের অবমাননাকর মন্তব্য এবং ১৬ জুলাই রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ অন্যান্যদের উপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় প্রাণহানি ঘটলে আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করে। আবু সাঈদের বুক পেতে গুলির সামনে দাঁড়ানোর আত্মত্যাগ গোটা জাতিকে আলোড়িত করে। একে একে শহীদ হন মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের রূপ:
নির্মম দমন-পীড়ন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ ও নির্বিচার গ্রেফতারের মুখে শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি ঘোষিত হয়—স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও বিচার। তখন কেবল ছাত্র নয়; শিক্ষক, অভিভাবক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, রিকশাচালক, শ্রমিক এবং নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বাঁধভাঙা 'লং মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটে এবং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
আন্দোলনের তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্য:
১. প্রজন্মের জাগরণ: বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজ বা তথাকথিত ‘জেন-জি’ প্রমাণ করেছে তারা রাজনীতিবিমুখ নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন।
২. ঐক্য ও সাহসিকতা: রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে দেশের আপামর জনসাধারণ মেধা ও ন্যায়ের প্রশ্নে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে।
৩. বৈষম্যহীন সমাজের দাবি: এই আন্দোলন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, দুর্নীতি ও শোষণের চির অবসান চেয়েছিল।
উপসংহার:
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন স্মারক। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং পঙ্গুত্ববরণকারী অগণিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই নতুন প্রত্যয়ের সূচনা হয়েছে। শহীদদের স্বপ্ন পূরণে একটি শোষণমুক্ত, সমতাভিত্তিক, জবাবদিহিতামূলক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণ করাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রধান দায়িত্ব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও