‍ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধিকার আন্দোলন ও ৭ মার্চের ভাষণ • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব ‘ক’ তার অঞ্চলে একজন জনপ্রিয় নেতা। মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য তিনি কাজ করেন। এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ের নিমিত্তে সরকারের নিকট তিনি কয়েকটি দাবি পেশ করেন। তার দাবিসমূহ ঐ এলাকার গণমানুষের মুক্তির দাবিতে পরিণত হয়।

  1. ক)

    মুজিবনগর সরকার কত তারিখে শপথ গ্রহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত দাবিসমূহ ছিল ঐ অঞ্চলের মানুষের সার্বিক মুক্তির রূপরেখা— তোমার মতামত দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত একটি ঐতিহাসিক সম্প্রচার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম এটি চালু হয়। পরে ভারত সীমান্তের কাছে স্থানান্তরিত হয়ে সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান এবং চরমপত্র ও জল্লাদের দরবার-এর মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধি ও জনগণকে উজ্জীবিত রাখতে এই বেতার কেন্দ্র অনন্য ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা কর্মসূচি’র মিল রয়েছে।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী দ্বারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল। এই শোষণ ও বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'ক' এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কয়েকটি দাবি সরকারের কাছে পেশ করেন, যা পরবর্তীতে গণমানুষের মুক্তির দাবিতে পরিণত হয়। একইভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ছয় দফা বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং এটি বাঙালির বাঁচার দাবিতে রূপ নেয়। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত দাবিসমূহ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সার্বিক মুক্তির রূপরেখা— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচিতে ছিল পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সার্বজনীন ভোটাধিকার, প্রদেশগুলোর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা, নিজস্ব কর ও শুল্ক নীতি এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের অধিকার। এই দফাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী শোষণ ও শাসন থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করা।

    ছয় দফাকে আখ্যায়িত করা হয় ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে। এই দাবির মধ্য দিয়েই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ স্বাধিকারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। পাকিস্তান সরকার ছয় দফাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে কারারুদ্ধ করে দমনপীড়ন চালায়। কিন্তু এ দমননীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

    পরবর্তীতে ছয় দফার ভিত্তিতেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা কর্মসূচি নিছক কোনো রাজনৈতিক দাবি ছিল না, এটি ছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বাঙালির সার্বিক মুক্তির প্রকৃত রূপরেখা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন