গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: দৃশ্যপট-২: পা ধনুকের মতো বাঁকা।দৃশ্যপট-৩: গলার সামনের অংশ কিছুটা ফোলা।

  1. ক)

    খাদ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে খাদ্য উপাদানের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-২ এ কোন কোন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। উক্ত রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-১ এ নির্দেশিত অভাবজনিত অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব আহার্য বস্তু গ্রহণ করলে জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, ক্ষয়পূরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, অর্থাৎ দেহের সার্বিক পুষ্টি সাধিত হয়, তাকে খাদ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেহের গঠন ও সঠিক বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান অপরিহার্য। খাদ্য উপাদানের মধ্যে প্রোটিন বা আমিষ প্রধানত কোষ গঠন ও নতুন কলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে মূল ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বিভিন্ন খনিজ লবণ যেমন—ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত গঠনে এবং আয়রন রক্ত তৈরিতে কাজ করে। পানি ও অন্যান্য উপাদান কোষের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বিক্রিয়া ও শারীরিক গঠনে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ উল্লেখিত 'পা ধনুকের মতো বাঁকা' হওয়া রিকেটস (Rickets) রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে।

    রোগের কারণ:
    ১. রিকেটস মূলত শরীরে ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়ামের তীব্র অভাবের কারণে হয়ে থাকে।
    ২. ভিটামিন 'ডি' অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সহায়তা করে। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন 'ডি'-এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সঠিক মাত্রায় শোষিত হতে পারে না।
    ৩. ফলে শিশুদের হাড় সঠিকভাবে গঠিত ও শক্ত হতে পারে না এবং নরম ও দুর্বল থেকে যায়। দেহের ঊর্ধ্বাংশের ভার বহন করতে গিয়ে পায়ের হাড় বেঁকে ধনুকের মতো রূপ নেয়। সূর্যের আলোর অপর্যাপ্ততা এবং খাবারে পর্যাপ্ত ভিটামিন 'ডি' ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতিই এই রোগের প্রধান কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১ এ চিত্রে চরম পুষ্টিহীনতা বা প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টির (PEM) দুই রূপ—'ম্যারাসমাস' (বামপাশের শীর্ণকায় শিশু) ও 'কোয়াশিয়রকর' (ডানপাশের ফোলা পেট ও শরীর বিশিষ্ট শিশু) প্রদর্শিত হয়েছে। এই অভাবজনিত অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    প্রতিকার:
    ১. প্রোটিন ও ক্যালরিবহুল খাবার প্রদান: আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন—দুধ, ডিমের কুসুম, ডাল, মাছ, মাংস এবং ক্যালরিবহুল সহজপাচ্য খাদ্য দিতে হবে।
    ২. খিচুড়ি ও সুষম খাদ্য: চাল, ডাল, তেল ও রঙিন শাকসবজি দিয়ে তৈরি পুষ্টিকর খিচুড়ি খাওয়ালে দ্রুত উন্নতি ঘটে।
    ৩. চিকিৎসা ও তরল ব্যবস্থাপনা: পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা থাকলে খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও ভিটামিন-খনিজ সাপ্লিমেন্ট দিতে হবে।

    প্রতিরোধের উপায়:
    ১. মায়ের দুধের গুরুত্ব: জন্মের পর শিশুকে শালদুধসহ প্রথম ৬ মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং) নিশ্চিত করতে হবে।
    ২. পরিপূরক খাদ্য: শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পুষ্টিকর ও সুষম বাড়তি খাবার শুরু করতে হবে।
    ৩. পুষ্টি সচেতনতা: পরিবারে মা ও অভিভাবকদের পুষ্টি ও খাদ্য প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, যাতে স্বল্প খরচে স্থানীয় পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা যায়।
    ৪. স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা: সংক্রমণ ও ডায়রিয়া অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়, তাই রোগ প্রতিরোধে টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন