কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৭৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এক ধরনের মাছ আমদানি করা হয়। মাছটি বিপদের সময় পোনাগুলোকে মুখের মধ্যে রেখে সুরক্ষা দেয় এবং বিপদ কেটে গেলে পুনরায় ছেড়ে দেয়। এটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ হওয়ায় বর্তমানে পুকুরে ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে এবং বাজারে এর চাহিদা অনেক। তবে চাষকালীন সময়ে পুকুরের তলদেশে অতিরিক্ত জৈব পদার্থ জমে গেলে মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস অঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধে, পরবর্তীতে রক্তক্ষরণ হয় এবং মাছ মারা যায়।
- ক)(1)
ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন কী?
- খ)(2)
মাছ চাষে পুকুরের জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ জরুরি কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছের রোগটি দমনে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলাশয়ে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক এককোষী বা বহুকোষী উদ্ভিদকণাকে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ চাষে পুকুরের জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত জলজ আগাছা থাকলে তা পুকুরে সূর্যালোক প্রবেশে বাধা দেয়, যার ফলে প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের সালোকসংশ্লেষণ ও বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এছাড়া আগাছা পানির পুষ্টি উপাদান শোষণ করে নেয়, মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়, জাল টেনে মাছ ধরা কঠিন করে এবং রাতের বেলায় শ্বসনের জন্য প্রচুর অক্সিজেন গ্রহণ করে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে। এসব কারণে মাছের সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জলজ আগাছা দমন করা প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছটি হলো 'তেলাপিয়া'। নিচে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রজনন ও অপত্য যত্ন: এ মাছের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর মাতৃসুলভ যত্ন বা প্যারেন্টাল কেয়ার। স্ত্রী মাছ ডিম নিষিক্ত করার পর তা মুখে নিয়ে তা দেয় এবং রেণু পোনা ফোটার পর বিপদের সম্মুখীন হলে পোনাগুলো মায়ের মুখের ভেতরে আশ্রয় নেয় ও বিপদ কাটলে বের হয়ে আসে।
২. দ্রুত বর্ধনশীল ও প্রতিকূলতা সহনশীল: এটি অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল এবং স্বাদু পানি ও মৃদু লবণাক্ত পানিতে সহজেই বেঁচে থাকতে পারে। স্বল্প অক্সিজেনযুক্ত ও প্রতিকূল পরিবেশেও এ মাছ সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
৩. খাদ্যাভ্যাস: তেলাপিয়া সর্বভুক প্রজাতির মাছ। এরা পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন প্ল্যাঙ্কটন, জলজ উদ্ভিদের অংশবিশেষ, পচনশীল জৈব পদার্থ এবং সম্পূরক খাদ্য সবই অত্যন্ত আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: অন্যান্য কার্পজাতীয় মাছের তুলনায় এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং অল্প জায়গায় ঘনভাবে চাষ করা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছের রোগটি পুকুরের তলদেশে অতিরিক্ত জৈব পদার্থ পচে বিষাক্ত গ্যাস (যেমন- অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড) সৃষ্টি এবং পরিবেশ দূষণের ফলে সৃষ্ট ফুলকা পচন বা রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা (গিল রট বা অ্যাসফিক্সিয়া)। এ রোগ দমনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে:
১. পুকুরের তলদেশ সংস্কার ও কাদা অপসারণ: পুকুরের তলায় অতিরিক্ত জৈব পদার্থ বা বিষাক্ত কাদা জমতে দেওয়া যাবে না। চাষ শুরুর আগে বা প্রয়োজনে পুকুর শুকিয়ে অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলে রোদ লাগাতে হবে।
২. চুন ও জিওলাইট প্রয়োগ: পানির বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে ও তলদেশের পরিবেশ শোধন করতে প্রতি শতকে ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া ক্ষতিকর গ্যাস শোষণের জন্য উপযুক্ত মাত্রায় জিওলাইট ব্যবহার করা যায়।
৩. পরিমিত খাদ্য সরবরাহ: অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া বন্ধ করতে হবে, কারণ অপভুক্ত খাদ্য পচে পানির গুণাগুণ নষ্ট করে এবং জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
৪. পানি পরিবর্তন ও বায়ু চলাচল বৃদ্ধি: পুকুরের দূষিত পানি আংশিক বের করে দিয়ে নতুন পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে। পানিতে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে প্যাডেল হুইল এরেটর ব্যবহার করা বা সাঁতার কেটে পানি নাড়াচাড়া করতে হবে।
৫. রোগ প্রতিরোধক ওষুধ প্রয়োগ: ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশক (যেমন- পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা টিমসেন) মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে।সুতরাং, পানির গুণাগুণ বজায় রাখা এবং পুকুরের তলদেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই এ ধরনের মারাত্মক রোগ কার্যকরভাবে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও