ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পর্বত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাদদেশীয় মালভূমির গঠন ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' স্তরটির বিবরণ দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' স্তরের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ১,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট, অত্যন্ত খাড়া ঢালযুক্ত ও সুবিস্তৃত পাথুরে ভূমিরূপকে পর্বত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উচ্চ পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এর পাদদেশে পলল সঞ্চিত হয়ে কিংবা লাভা সঞ্চয়ের ফলে যে মালভূমি গঠিত হয়, তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।

    সাধারণত উচ্চ পর্বত গঠনের সময় এর পাদদেশের অঞ্চল সামান্য উত্থিত হয়ে এ ধরনের মালভূমি সৃষ্টি হতে পারে। পর্বতের শীর্ষদেশ দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়িত শিলাখণ্ড ও পলি পর্বতের পাদদেশে জমা হয়ে ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে ঢেউ খেলানো বা কিছুটা সমতল মালভূমিতে পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর আমেরিকার কলোরাডো ও দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া মালভূমি এ জাতীয় মালভূমির উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনের তিনটি প্রধান স্তর দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে সর্ববহিঃস্থ স্তর 'ক' হলো অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক (Crust)।

    ভূত্বকের বিবরণ:
    ১. বিস্তার ও পুরুত্ব: পৃথিবীর কঠিন বহিরাবরণকে ভূত্বক বলে। ভূ-অভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় এর পুরুত্ব সবচেয়ে কম। মহাসাগরের তলদেশে এর গভীরতা গড়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় অঞ্চলে গড়ে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। সামগ্রিকভাবে এর গড় পুরুত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
    ২. গঠনকারী উপাদান: ভূত্বকের উপরিভাগ মূলত সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত, যা 'সিয়াল' (SIAL) নামে পরিচিত। এর নিচের স্তর প্রধানত সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত, যা 'সিমা' (SIMA) স্তর নামে পরিচিত।
    ৩. বৈশিষ্ট্য: শিলা ও খনিজের সমন্বয়ে গঠিত এই স্তরেই মানবজাতিসহ সমগ্র জীবজগতের বসবাস। এই স্তরের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটার গভীরতায় প্রায় ৩০° সেলসিয়াস হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে 'খ' স্তরটি হলো গুরুমণ্ডল (Mantle) এবং 'গ' স্তরটি হলো কেন্দ্র Europe বা কেন্দ্রমণ্ডল (Core)। নিচে এ দুটি স্তরের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অবস্থান: ভূত্বকের নিচে কেন্দ্রমণ্ডলের উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটি হলো গুরুমণ্ডল ('খ')। পক্ষান্তরে, পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত এবং গুরুমণ্ডলের নিচে অবস্থিত সর্বাপেক্ষা অভ্যন্তরীণ স্তরটি হলো কেন্দ্রমণ্ডল ('গ')।

    ২. পুরুত্ব ও গভীরতা: গুরুমণ্ডলের পুরুত্ব প্রায় ২,৮৮৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে, কেন্দ্রমণ্ডলের ব্যাসার্ধ বা পুরুত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার।

    ৩. উপাদান: গুরুমণ্ডল প্রধানত সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা ও অন্যান্য ভারী খনিজের সংমিশ্রণে গঠিত (ব্যাসল্ট জাতীয় শিলা দ্বারা তৈরি)। অপরপক্ষে, কেন্দ্রমণ্ডল মূলত লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni) দ্বারা গঠিত, যাকে সংক্ষেপে 'নাইফ' (NiFe) বলা হয়।

    ৪. উপ-বিভাগ: গুরুমণ্ডল দুটি ভাগে বিভক্ত—ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (প্রায় ৭০০ কিমি পর্যন্ত) ও নিম্ন গুরুমণ্ডল। কেন্দ্রমণ্ডলও দুটি অংশে বিভক্ত—বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল (তরল অবস্থায় প্রায় ২,২৭০ কিমি) এবং অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল (কঠিন অবস্থায় প্রায় ১,২-১৬ কিমি)।

    ৫. পদার্থের অবস্থা, চাপ ও তাপমাত্রা: গুরুমণ্ডলের শিলাসমূহ অত্যন্ত উত্তপ্ত ও নমনীয় বা সান্দ্র অবস্থায় থাকে। কিন্তু কেন্দ্রমণ্ডলের অভ্যন্তরীণ অংশের তাপমাত্রা ও চাপ অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় এর অন্তঃস্থ অংশ প্রায় কঠিন অবস্থায় বিরাজ করে।

    অতএব, গঠন উপাদান, গভীরতা এবং ভৌত অবস্থার দিক থেকে ভূ-অভ্যন্তরের 'খ' (গুরুমণ্ডল) ও 'গ' (কেন্দ্রমণ্ডল) স্তরের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন