সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
বাংলাদেশে একসময় ইংরেজরা চাষীদের দিয়ে জোর করে নীলচাষ করাতো। নীলচাষে বাধ্য হওয়ার ফলে চাষীরা তাদের প্রয়োজনীয় ফসল ফলাতে পারতো না। অত্যাচারী ইংরেজদের জোর করে নীলচাষ করানোর বিরুদ্ধে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কৃষকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ধীরে ধীরে বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে নীল বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলার নানার নাম কী?
- খ)(2)
ষড়যন্ত্রকারীরা শওকতজঙ্গকে নবাব হিসেবে চেয়েছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ইংরেজদের আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন বিশেষ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেবল খণ্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।" -মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিরাজউদ্দৌলার নানার নাম নবাব আলীবর্দী খাঁ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্ণিয়ার শাসক শওকতজঙ্গ ছিলেন নির্বোধ, বিলাসী ও দুর্বলচিত্তের মানুষ; তাঁকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা যাবে বলেই ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে নবাব হিসেবে চেয়েছিল।
সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন স্বাধীনচেতা, তেজস্বী ও ইংরেজবিরোধী। তাঁকে সিংহাসনে রেখে ইংরেজ ও দরবারের বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে শোষণ বা কর্তৃত্ব বজায় রাখা সম্ভব ছিল না। পক্ষান্তরে শওকতজঙ্গকে পুতুল নবাব বানিয়ে শাসনক্ষমতার আড়ালে নিজেরা লাভবান হতে চেয়েছিল বলেই ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁর পক্ষ অবলম্বন করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ইংরেজদের শোষণমূলক আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔপনিবেশিক আগ্রাসন, বাণিজ্যিক শোষণ ও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ইংরেজরা বাংলায় শুধুমাত্র বাণিজ্য করতে এসে ক্রমান্বয়ে শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। তারা নবাবের অনুমতি না নিয়ে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ করে, দস্তক বা বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকারের চরম অপব্যবহার করে এবং দেশীয় বণিক ও প্রজাদের শোষণ-নিপীড়ন চালায়।
উদ্দীপকেও ইংরেজদের একই রকম আগ্রাসী মনোভাব ও অন্যায় শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে তারা কৃষকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে নীলচাষ করাত। ফলে কৃষকরা খাদ্যশস্য ফলাতে ব্যর্থ হয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে। উদ্দীপকের এই বলপ্রয়োগ ও অন্যায় শোষণপ্রবৃত্তি নাটকে বর্ণিত ইংরেজ কোম্পানির স্বেচ্ছাচারী আচরণেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেবল খণ্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকে ইংরেজদের নীলচাষের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর চালানো অর্থনৈতিক শোষণ এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ১৮৫৯ সালের নীল বিদ্রোহের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি ইংরেজদের ভারতীয় উপমহাদেশে শাসন ও শোষণের ইতিহাসের একটি বিশেষ পর্বের খণ্ডচিত্র মাত্র।
পক্ষান্তরে, সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি মূলত অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি (১৭৫৭ সাল) বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা, দেশপ্রেম এবং প্রাসাদ-ষড়যন্ত্রের এক সুবিশাল ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত। নাটকে তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ইংরেজদের সাথে তাঁর সংঘাত, পাশাপাশি তাঁর নিজের খালা ঘসেটি বেগম, সেনাপতি মিরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ ও উমিচাঁদের গভীর ষড়যন্ত্র এবং পলাশির যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর করুণ ইতিহাস চিত্রিত হয়েছে।
উদ্দীপকে কেবল ইংরেজদের ঔপনিবেশিক নিপীড়ন ও তার বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহের দিকটি এসেছে, যা নাটকের সামগ্রিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা হারানোর ট্র্যাজেডি এবং অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার মতো মূল বিষয়গুলোকে ধারণ করে না। সুতরাং, উদ্দীপকটি নাটকের ইংরেজদের শোষণমূলক স্বভাবের একটি ক্ষুদ্র অংশকে স্পর্শ করলেও নাটকের সামগ্রিক রূপের তুলনায় তা কেবল খণ্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও