যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    যুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত যুক্তিবিদ মিলের সংজ্ঞাটি লেখো।

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'চারাগাছ' দ্বারা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের কোন যুগকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'বীজ' দ্বারা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ধারায় যে যুগকে নির্দেশ করা হয়েছে সেই যুগের একজন যুক্তিবিদের যুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত ধারণা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, "যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান যা সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচার বা মূল্যায়নের জন্য মানসিক প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনা করে; এটি জানা সত্য থেকে অজানা সত্যে পৌঁছানোর পদ্ধতি এবং এর সহায়ক অপরাপর বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিয়াসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করে।"

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে বিজ্ঞান কোনো একটি নির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে কোনো বিষয়ের মূল্যায়ন বা বিচার করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য হলো সত্যকে অর্জন করা এবং মিথ্যাকে বর্জন করা। এখানে 'সত্যতা' হলো একটি পরম আদর্শ। যুক্তিবিদ্যা কোনো ঘটনা কেবল যেভাবে ঘটে সেভাবে বর্ণনা করে না, বরং যুক্তিপদ্ধতিকে সত্যের এই কাঙ্ক্ষিত আদর্শে পৌঁছানোর উপযোগী করে সঠিক চিন্তার নিয়মাবলি প্রণয়ন ও নির্দেশনা প্রদান করে। তাই যুক্তিবিদ্যাকে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'চারাগাছ' দ্বারা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের 'মধ্যযুগীয় যুগ' (মধ্যযুগ)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ইতিহাসে প্রধানত চারটি যুগ পরিলক্ষিত হয়: প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ এবং সাম্প্রতিক/সমকালীন যুগ। উদ্দীপকের ধারাবাহিক চিত্রে বীজ (প্রাচীন যুগ), চারাগাছ (মধ্যযুগ), পূর্ণাঙ্গ গাছ (আধুনিক যুগ) এবং ফলজ গাছ (সাম্প্রতিক বা সমকালীন যুগ)-এর মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার বিকাশমান পর্যায়গুলো রূপক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।

    প্রাচীন যুগে এরিস্টটলের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার বীজ রোপিত বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়। মধ্যযুগে আরব ও ইউরোপীয় চিন্তাবিদদের হাত ধরে তা চারাগাছের রূপ ধারণ করে ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে। আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, টমাস একুইনাস প্রমুখ মুসলিম ও খ্রিষ্টীয় পণ্ডিতগণ প্রাচীন গ্রিক যুক্তিবিদ্যাকে সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও ভাষ্য রচনার মাধ্যমে একে এগিয়ে নিয়ে যান। সুতরাং, ক্রমবিকাশের দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে উদ্দীপকের 'চারাগাছ' যুক্তিবিদ্যার মধ্যযুগকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'বীজ' দ্বারা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের 'প্রাচীন যুগ'কে নির্দেশ করা হয়েছে। প্রাচীন যুগের প্রধান ও অবিসংবাদিত যুক্তিবিদ হলেন এরিস্টটল, যাঁকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়। নিচে তাঁর যুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত ধারণা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন: এরিস্টটলের পূর্বে পিথাগোরাস, সক্রেটিস ও প্লেটোর চিন্তায় যুক্তির ব্যবহার থাকলেও এরিস্টটলই সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যাকে জ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র ও নিয়মবদ্ধ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কিত তাঁর মূল গ্রন্থসমূহের সংকলন 'অর্গানন' (Organon) নামে পরিচিত, যার অর্থ জ্ঞানের 'যন্ত্র' বা 'সহায়ক মাধ্যম'।

    ২. সহানুমান (Syllogism): এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যার কেন্দ্রীয় অবদান হলো তাঁর সহানুমানের তত্ত্ব। এতে দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। যেমন—'সকল মানুষ হয় মরণশীল, সক্রেটিস হন একজন মানুষ; অতএব, সক্রেটিস হন মরণশীল।' তিনি সহানুমানের নিয়ম, মূর্তি ও সংস্থান বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।

    ৩. পদের তত্ত্ব ও বিধেয়ক: তিনি পদ, অবধারণ, এবং দশটি মৌলিক ধারণাশ্রেণি (Categories) আলোচনা করেন। এছাড়া চিন্তার মৌলিক সূত্রাবলি (অভেদ নিয়ম, বিরোধ নিয়ম, মধ্যম রহিত নিয়ম) প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম।

    ৪. অবরোহ পদ্ধতির প্রাধান্য: এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যা মূলত আকারগত বা অবরোহমূলক। তিনি যুক্তির আকারের শুদ্ধতার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে যুক্তির গঠন সংগত ও ত্রুটিমুক্ত থাকে।

    পরিশেষে বলা যায়, যেভাবে বীজ থেকে বিশাল মহীরুহের জন্ম হয়, তেমনি এরিস্টটলের যুক্তিচিন্তাকে ভিত্তি (বীজ) করেই পরবর্তীকালে মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ ও সমকালীন যুক্তিবিদ্যার সমৃদ্ধ বিকাশ সাধিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন