‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    OIC কী?

    (1)
  2. খ)

    সার্কের গঠন লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ছকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানের প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    OIC হলো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার পূর্ণ রূপ 'Organisation of Islamic Cooperation' (ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় সার্ক (SAARC - South Asian Association for Regional Cooperation) গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন এর সদস্য দেশ ছিল ৭টি— বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে চতুর্দশ শীর্ষ সম্মেলনে আফগানিস্তান অষ্টম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত এবং সচিবালয় হলো জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি অঙ্গসংগঠন। সুতরাং, প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানের প্রতিষ্ঠানটি হলো 'জাতিসংঘ' (United Nations)।

    জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো আগ্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা।
    ২. সকল জাতির মধ্যে সম-অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
    ৩. অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
    ৪. মৌলিক মানবাধিকার এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন বৃদ্ধি করা।
    ৫. এসব সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কার্যাবলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ। বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারক এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সদস্যপদ লাভের পর একই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন এবং শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবিচল অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

    ১. শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ সৈন্য ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। সংঘাতময় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি সদস্যদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।
    ২. আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ: বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা ও পর্ষদে (যেমন: মানবাধিকার কাউন্সিল, ইকোসক) সক্রিয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বৈশ্বিক নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
    ৩. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি: জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা বাংলাদেশের এক অনন্য অর্জন।
    ৪. সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল (ITLOS) ও মধ্যস্থতা আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারত ও মিয়ানমারের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রসীমা বিরোধ মীমাংসা করেছে।
    ৫. উন্নয়ন ও সংকট মোকাবিলা: বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ বলিষ্ঠ সহায়তা প্রদান করে আসছে।

    সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মূল সনদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নে এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন