সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
মস্তিষ্কের বিকাশজনিত এক ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন জনাব সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এ প্রতিবন্ধিতার শিকার শিশুদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ক্ষেত্রে তিনি নিবেদিতপ্রাণ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৭ সালে এই মহতী কর্মের জন্য তাকে দক্ষিণ এশিয়ার 'চ্যাম্পিয়ন' সম্মানে ভূষিত করে।
- ক)(1)
মাদকদ্রব্য 'ইয়াবা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
- খ)(2)
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মস্তিষ্কের বিকাশজনিত কোন সমস্যার ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমস্যাটির প্রভাব ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাদকদ্রব্য 'ইয়াবা' শব্দটি থাই (থাইল্যান্ডের) ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ 'পাগলা ওষুধ' (Crazy medicine)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনগতভাবে নির্ধারিত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ বিয়ের ন্যূনতম আইনি বয়সের (বাংলাদেশে ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর) নিচে কোনো ছেলে বা মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন হওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে। এটি একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, যা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মস্তিষ্কের বিকাশজনিত 'অটিজম' (Autism) বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার সমস্যার ইঙ্গিত রয়েছে।
অটিজম কোনো মানসিক রোগ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের স্নায়বিক বিকাশজনিত একটি জটিল প্রতিবন্ধিতা। এর ফলে আক্রান্ত শিশুর সামাজিক যোগাযোগ, কথাবার্তা বা ভাববিনিময় এবং আচরণের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তারা সাধারণত সমবয়সীদের সাথে মেলামেশা করতে পারে না, চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে চায় না এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ প্রদর্শন করে। উদ্দীপকে জনাব সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন, যা মূলত অটিজম সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনার সাথেই সম্পৃক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমস্যাটি অর্থাৎ 'অটিজম'-এর প্রভাব শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ব্যক্তি থেকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত গভীরভাবে বিস্তৃত।
১. ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রভাব: অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে স্বাভাবিকভাবে অন্যের সাথে যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া করতে পারে না। তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা দৈনন্দিন মৌলিক কাজের জন্যও অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা তাদের মানসিক ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২. পারিবারিক পর্যায়ে প্রভাব: একটি অটিস্টিক শিশুর লালন-পালন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। পরিবারকে সবসময় বিশেষ যত্ন দিতে হয়, যা অভিভাবকদের মানসিক চাপ, সামাজিক একাকীত্ব এবং আর্থিক সংকটে ফেলে। অনেক সময় সমাজে নানা কুসংস্কার ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পুরো পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়।
৩. সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রভাব: এ সমস্যা সামাজিক উন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অটিজমে আক্রান্ত বিপুল জনগোষ্ঠী সমাজে উপযুক্ত পরিচর্যা ও বৃত্তিমূলক পুনর্বাসন না পেলে অনুৎপাদনশীল থেকে যায়। রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পক্ষান্তরে, তাদের প্রতিভা ও সক্ষমতাকে চিহ্নিত করে কাজে লাগাতে পারলে তারা মানবসম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে।
অতএব, অটিজম এমন একটি বিকাশজনিত জটিলতা যার বহুমাত্রিক প্রভাব সমগ্র জাতি ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের ওপর প্রতিফলিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও