রসায়ন ১ম পত্র • রাসায়নিক পরিবর্তন • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
হাইড্রোজেন বন্ধন কাকে বলে?
- খ)(2)
ফ্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তির চেয়ে ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি বেশি কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের L কে পানিতে দ্রবীভূত করলে 0.001M H₂SO₄ দ্রবণ উৎপন্ন হয়। এই দ্রবণের pOH এর মান নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
(i) ও (ii) নং বিক্রিয়ার উৎপাদ বৃদ্ধির কৌশলের বর্ণনা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তড়িৎ ঋণাত্মক মৌলের সাথে যুক্ত কোনো হাইড্রোজেন পরমাণু অপর একটি অধিক তড়িৎ ঋণাত্মক ক্ষুদ্র পরমাণুর সাথে যে দুর্বল স্থির-বৈদ্যুতিক আকর্ষণে আবদ্ধ হয়, তাকে হাইড্রোজেন বন্ধন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফ্লোরিন (F) ও ক্লোরিন (Cl) উভয়ই পর্যায় সারণির ১৭ নং গ্রুপের মৌল। সাধারণত একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে নামলে পরমাণুর আকার বাড়ার কারণে ইলেকট্রন আসক্তি কমার কথা থাকলেও ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি হয়। এর কারণ হলো ফ্লোরিনের পরমাণুর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং এর দ্বিতীয় শক্তিস্তরে (2p) ইলেকট্রন ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। ফলে নতুন কোনো ইলেকট্রন যুক্ত হতে গেলে সেখানে তীব্র ইলেকট্রন-ইলেকট্রন বিকর্ষণ অনুভূত হয়। পক্ষান্তরে, ক্লোরিনের আকার বড় হওয়ায় এর তৃতীয় শক্তিস্তরে (3p) ইলেকট্রন ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং নতুন ইলেকট্রন যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিকর্ষণ কম হয়। ফলে ফ্লোরিনের চেয়ে ক্লোরিনে ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা বা নির্গত শক্তি বেশি হয়। তাই ফ্লোরিনের চেয়ে ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি বেশি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুসারে, 0.001 M H₂SO₄ দ্রবণের pOH নির্ণয় করতে হবে।
H₂SO₄ একটি তীব্র দ্বি-ক্ষারকীয় এসিড। জলীয় দ্রবণে এটি সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়:
H₂SO₄ → 2H⁺ + SO₄²⁻সুতরাং, দ্রবণে H⁺ আয়নের ঘনমাত্রা,
[H⁺] = 2 × [H₂SO₄] = 2 × 0.001 M = 0.002 Mএখন, দ্রবণের pH এর মান:
pH = -log₁₀[H⁺]
= -log₁₀(0.002)
= 2.699 (বা প্রায় 2.70)আমরা জানি, ২৫°C তাপমাত্রায়,
pH + pOH = 14
বা, pOH = 14 - pH
= 14 - 2.699
= 11.301অতএব, দ্রবণটির pOH এর মান 11.301 (বা 11.30)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লা-শাতেলিয়ার নীতি অনুসারে (i) ও (ii) নং বিক্রিয়ার উৎপাদ বৃদ্ধির কৌশল আলোচনা করা হলো:
১. (i) নং বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে: 2M(g) + N(g) ⇌ 2L(g); ΔH = -ve
এটি একটি তাপউৎপাদী ও মোল সংখ্যা হ্রাসকারী বিক্রিয়া।- তাপমাত্রার প্রভাব: যেহেতু বিক্রিয়াটি তাপউৎপাদী (ΔH ঋণাত্মক), তাই লা-শাতেলিয়ার নীতি অনুযায়ী তাপমাত্রা হ্রাস করলে বিক্রিয়াটি সামনের দিকে অগ্রসর হবে এবং L এর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তবে বিক্রিয়ার গতি বজায় রাখার জন্য একটি পরিমিত বা সর্বোত্তম (অনুকূল) নিম্ন তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয়।
- চাপের প্রভাব: বিক্রিয়কের মোট মোল সংখ্যা (২ + ১ = ৩) থেকে উৎপাদের মোল সংখ্যা (২) কম। বিক্রিয়ায় আয়তন বা মোল সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় উচ্চ চাপ প্রয়োগ করলে সাম্যাবস্থা ডানদিকে সরে যাবে এবং উৎপাদ L এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
- ঘনমাত্রার প্রভাব: বিক্রিয়ক M ও N এর ঘনমাত্রা বৃদ্ধি করলে বা উৎপাদ L কে বিক্রিয়া মাধ্যম থেকে নিয়মিত অপসারণ করলে বিক্রিয়াটি সম্মুখমুখী হয়ে অধিক L উৎপাদিত হবে।
২. (ii) নং বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে: O(g) + P(g) ⇌ 2Q(g); ΔH = +ve
এটি একটি তাপহারী বিক্রিয়া এবং এতে বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মোল সংখ্যা সমান।- তাপমাত্রার প্রভাব: যেহেতু বিক্রিয়াটি তাপহারী (ΔH ধনাত্মক), তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে বিক্রিয়াটি সম্মুখমুখী হবে এবং উৎপাদ Q এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
- চাপের প্রভাব: বিক্রিয়কের মোট মোল সংখ্যা (১ + ১ = ২) এবং উৎপাদের মোল সংখ্যা (২) সমান। বিক্রিয়ায় কোনো মোল সংখ্যার বা আয়তনের পরিবর্তন না হওয়ায় এই সাম্যাবস্থার ওপর চাপের কোনো প্রভাব নেই।
- ঘনমাত্রার প্রভাব: বিক্রিয়ক O ও P এর ঘনমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি করলে অথবা উৎপাদ Q কে সিস্টেম থেকে সরিয়ে নিলে উৎপাদ বৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও