জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • কোষ ও এর গঠন • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
অঙ্গাণু 'X' আদিকোষী এবং প্রকৃতকোষী উভয় জীবেই বিদ্যমান। অঙ্গাণু 'Y' কেবল সবুজ কোষে পাওয়া যায়।
- ক)(1)
ক্রিস্টি কী?
- খ)(2)
জেনেটিক কোডনসূহ সার্বজনীন ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' অঙ্গাণুটির রাসায়নিক গঠন এবং শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
প্রোটিন তৈরিতে অঙ্গাণু 'X' এর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাইটোকন্ড্রিয়নের অন্তঃআবরণীটি ভেতরের দিকে আঙুলের মতো যে ভাঁজ বা প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, তাকে ক্রিস্টি (cristae) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জেনেটিক কোডনসমূহ সার্বজনীন বা সার্বিক (universal) বলতে বোঝায় যে একটি নির্দিষ্ট ট্রিপলেট কোডন আদিকোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে উন্নত মানুষ পর্যন্ত সকল জীবের ক্ষেত্রে একই অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে। যেমন— 'AUG' কোডনটি ব্যাকটেরিয়া কিংবা মানুষ নির্বিশেষে সর্বদাই মেথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত বহন করে। জীবের বংশগতি ও প্রোটিন সংশ্লেষণের এই মৌলিক নিয়মটি প্রায় সমগ্র জীবজগতের জন্য একই হওয়ায় জেনেটিক কোডনকে সার্বজনীন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গাণু 'Y' হলো ক্লোরোপ্লাস্ট।
১. রাসায়নিক গঠন:
ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো প্রোটিন (৩৫-৫৫%) এবং লিপিড (২০-৩০%)। লিপিডের সিংহভাগই হলো ফসফোলিপিড ও গ্লাইকোলিপিড। এছাড়া এতে বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে, যেমন ক্লোরোফিল-এ (প্রায় ৭৫%), ক্লোরোফিল-বি (প্রায় ২৫%), ক্যারোটিনয়েডস (ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল)। ক্লোরোপ্লাস্টে নিজস্ব বৃত্তাকার ডিএনএ (cpDNA), ৭০S রাইবোজোম, আরএনএ এবং সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম (যেমন: RuBisCO) বিদ্যমান।২. শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক ও অন্ধকার পর্যায় সম্পন্ন করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ।
- থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে (ATP ও NADPH) রূপান্তর করে (ফটোফসফোরাইলেশন)।
- পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন নিঃসরণ করে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ফটোরেস্পিরেশন প্রক্রিয়ায় পারঅক্সিজোম ও মাইটোকন্ড্রিয়নের সাথে অংশগ্রহণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সর্বজনীন অঙ্গাণু 'X' হলো রাইবোজোম। রাইবোজোমকে কোষের 'প্রোটিন কারখানা' (Protein factory) বলা হয়, কারণ এটি প্রোটিন তৈরির প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
প্রোটিন তৈরিতে রাইবোজোমের ভূমিকা নিম্নরূপ:
১. ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ার সূচনা: প্রোটিন তৈরির সময় mRNA-র সাথে রাইবোজোমের ক্ষুদ্র সাব-ইউনিট (প্রোক্যারিওটে ৩০S এবং ইউক্যারিওটে ৪০S) যুক্ত হয়ে সূচনা কমপ্লেক্স গঠন করে। পরে বৃহৎ সাব-ইউনিট যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী রাইবোজোম তৈরি করে।
২. সাইট প্রদান: রাইবোজোমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাইট থাকে— A (অ্যামাইনোঅ্যাসাইল) সাইট, P (পেপটিডাইল) সাইট এবং E (এক্সিট) সাইট। A-সাইটে নতুন চার্জড tRNA প্রবেশ করে এবং P-সাইটে অবস্থানরত tRNA-এর সাথে পেপটাইড বন্ধন গঠিত হয়।
৩. পেপটাইড বন্ধন সৃষ্টি: রাইবোজোমের বৃহৎ সাব-ইউনিটে অবস্থিত রাইবোজাইম (পেপটিডিল ট্রান্সফারেজ এনজাইম হিসেবে কার্যক্ষম rRNA) দুটি অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে পেপটাইড বন্ধন তৈরিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
৪. ট্রান্সলোকেশন: রাইবোজোমটি mRNA সূত্র বরাবর ৫' থেকে ৩' প্রান্তের দিকে এক কোডন করে অগ্রসর হতে থাকে (ট্রান্সলোকেশন), ফলে পলিপেপটাইড চেইন ক্রমশ দীর্ঘায়িত হয়।
৫. সমাপ্তিকরণ: সমাপ্তি কোডন (UAA, UAG, UGA) এলে রিলিজ ফ্যাক্টরের সহায়তায় নবগঠিত পলিপেপটাইড শৃঙ্খল মুক্ত হয় এবং রাইবোজোমের সাব-ইউনিট দুটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।সুতরাং, সঠিক ক্রমানুসারে অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত করে প্রোটিন অণু তৈরিতে রাইবোজোম সরাসরি প্রধান ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও