‍ইতিহাস ২য় পত্র • ফরাসি বিপ্লব • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনেক বুদ্ধিজীবী সরাসরি অংশগ্রহণ। না করলেও তারা তাদের লেখনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন। দেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ্বজনমত গঠনেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

  1. ক)

    'The Spirit of Laws' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

    (1)
  2. খ)

    বাস্তিল দুর্গ বলতে কী বোঝ? বর্ণনা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের লেখনীর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কাদের লেখনীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত লেখনী তৎকালীন সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনে কেমন ভূমিকা। পালন করেছিল বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'The Spirit of Laws' (দ্য স্পিরিট অব লজ) গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাস্তিল দুর্গ ছিল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত দুর্গ ও কুখ্যাত রাজকীয় কারাগার। এটি ফরাসি বোরবন রাজতন্ত্রের স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক শাসনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ক্ষুব্ধ ফরাসি জনতা এই দুর্গ আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়, যা ফরাসি বিপ্লবের সূচনা নির্দেশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বুদ্ধিজীবীদের লেখনীর ভূমিকার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফরাসি দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের লেখনীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

    ফরাসি বিপ্লবের পটভূমি রচনায় রুশো, ভলতেয়ার, মন্টেস্কু, এবং দিদেরো-সহ অন্যান্য এনসাইক্লোপিডিস্টদের লেখনী সাধারণ মানুষকে জাগ্রত করেছিল। তারা সামাজিক বৈষম্য, চার্চের দুর্নীতি ও রাজতান্ত্রিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি জনগণকে বিপ্লবে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

    উদ্দীপকে যেমন মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করেও বুদ্ধিজীবীদের লেখনী মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত ও বিশ্বজনমত তৈরি করেছিল, তেমনি ফরাসি দার্শনিকরা প্রত্যক্ষ অস্ত্র হাতে না নিয়েও চিন্তার বিপ্লব ঘটিয়ে ফরাসি জনগণকে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের লেখনী তৎকালীন ফরাসি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।

    তৎকালীন ফ্রান্সের অষ্টাদশ শতাব্দীর সমাজ তিনটি এস্টেটে বিভক্ত ছিল, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত তৃতীয় শ্রেণির মানুষ চরম বৈষম্যের শিকার হতো। দার্শনিকদের লেখনী এই শোষণমূলক ব্যবস্থার মূলে আঘাত হানে:
    ১. চেতনার উন্মেষ: মন্টেস্কুর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, ভলতেয়ারের ধর্মীয় কুসংস্কার ও চার্চবিরোধী লেখনী এবং জঁ-জ্যাক রুশোর 'সামাজিক চুক্তি' (The Social Contract) তত্ত্ব মানুষের মাঝে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার বাণী পৌঁছে দেয়। রুশোর "মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত" উক্তিটি বিপ্লবীদের মূলমন্ত্রে পরিণত হয়।
    ২. পুরাতন ব্যবস্থার অবসান: এই দার্শনিকদের লেখনী জনগণের মনে রাজার ঐশ্বরিক অধিকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সাহস জোগায়, যা বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রাচীন ব্যবস্থা (Ancien Régime)-র বিলোপ ঘটায়।
    ৩. নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি: বিপ্লবের ফলে সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটে এবং সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে 'মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্র' রচিত হয়।

    সুতরাং, দার্শনিকদের লেখনী শুধু মানসিক পরিবর্তনই আনেনি, বরং একটি প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ ও স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন