গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বেইন কী?
- খ)(2)
‘বেনারসি শাড়ির ঐতিহ্য অতি প্রাচীন’ — বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ ? চিহ্নিত কোন ঐতিহাসিক বস্তুকে নির্দেশ করেছে? এর উৎপাদন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ ? চিহ্নিত স্থানের বস্ত্র দুটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে আমাদের আকৃষ্ট করে— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মণিপুরি সম্প্রদায়ের কোমর তাঁতকে তাদের নিজস্ব ভাষায় 'বেইন' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বেনারসি শাড়ির ইতিহাস ও ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। প্রাচীন ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী বা বেনারস নগরীতে এ শাড়ির উৎপত্তি ঘটেছিল। বিশেষ করে মুঘল আমলে সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় জরির কাজ, সূক্ষ্ম কারুকার্য ও রেশমি সুতার সমন্বয়ে রাজকীয় ঘরানায় বেনারসি শাড়ির শিল্প চরম উৎকর্ষ লাভ করে। দেশভাগের পর কারিগররা এ দেশে চলে এলে ঢাকার মিরপুরে বেনারসি পল্লী গড়ে ওঠে। এর সূক্ষ্ম বুনন ও ঐতিহ্যবাহী নকশার আবেদন শত শত বছর ধরে অম্লান রয়েছে বলেই এর ঐতিহ্যকে অতি প্রাচীন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ '?' চিহ্নিত স্থানে ঐতিহাসিক বস্ত্র 'রেশম' (সিল্ক)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
রেশম বস্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. পলুপালন (Sericulture): রেশম মথ ডিম পাড়ার পর তা থেকে লার্ভা বা রেশম কীট বের হয়। এদের তুঁত গাছের কচি পাতা খাইয়ে বড় করা হয়।
২. কোকুন বা গুটি তৈরি: পূর্ণাঙ্গ রেশম পোকা নিজের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তরল দিয়ে চারদিকে আবরণ বা কোকুন তৈরি করে।
৩. বাছাই ও গরম পানিতে প্রক্রিয়াকরণ: কোকুনগুলোকে বাছাই করে গরম পানিতে বা ভাপে সেদ্ধ করা হয়। এতে ভেতরের পোকা মারা যায় এবং আঠালো পদার্থ নরম হয়ে সুতা ছাড়ানোর উপযোগী হয়।
৪. রিলিং বা সুতা টানা (Reeling): কোকুন থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম অবিচ্ছিন্ন ফিলামেন্ট বা তন্তু সাবধানে টেনে চরকায় বা মেশিনে জড়ানো হয়।
৫. সুতা পাকানো ও বয়ন: কয়েকটি তন্তুকে একসাথে পাকিয়ে শক্ত ও ব্যবহারের উপযোগী রেশম সুতা তৈরি করা হয়। এরপর তাঁত বা আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে কাপড় বোনা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ '?' চিহ্নিত বস্ত্র দুটি হলো যথাক্রমে 'জামদানি' (ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত) এবং 'খাদি বা খদ্দর' (স্বদেশি আন্দোলনের প্রতীক)। এদের নিজস্ব অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে এরা আমাদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।
জামদানি বস্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
১. অনন্য বয়নপদ্ধতি ও নকশা: জামদানি কোনো বাড়তি যন্ত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ হাতে কাঠি বা মাকু দিয়ে ফুটিয়ে তোলা জ্যামিতিক নকশার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম।
২. সূক্ষ্মতা ও কোমলতা: জামদানির সুতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নরম হওয়ায় পরিধানে এটি খুবই আরামদায়ক ও দৃষ্টিনন্দন। ২০১৩ সালে ইউনেস্কো একে 'ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।খাদি বা খদ্দর বস্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
১. দেশীয় অনুভূতি ও ইতিহাস: মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশি আন্দোলন ও বিদেশি কাপড় বর্জনের অংশ হিসেবে খদ্দরের উৎপত্তি, যা দেশপ্রেম ও স্বনির্ভরতার প্রতীক।
২. আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব: চরকায় কাটা সুতা দিয়ে তাঁতে বোনা এ কাপড়ের গঠন ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় এটি গ্রীষ্মকালে শীতল ও আরামদায়ক এবং শীতকালে ওম প্রদান করে।পরিশেষে, জামদানির রাজকীয় সৌন্দর্য ও কারুশিল্প এবং খাদির সাদামাটা আরামদায়ক ভাব ও দেশাত্মবোধক ঐতিহ্য—উভয় বস্ত্রই তাদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যের কারণে যুগ যুগ ধরে বাঙালি ও ফ্যাশনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে আসছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও