সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
ধর্মব্যবসায়ীরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করে এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গও তাদের অধীন হয়ে যায়। শোষণের সুবিধার্থে তারা ধর্মব্যবসায়ীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়।
- ক)(1)
'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ।"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি স্বার্থ হাসিল করে।"-উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ হলো গুমোট বা বাতাসহীন অবস্থা (অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমে বাতাস বন্ধ হয়ে যাওয়া অবস্থা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, রহিমা যেমন মজিদের ধর্মভীতি ও আধিপত্যের কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পিত, গ্রামের সাধারণ মানুষও ঠিক তেমনি বিচার-বুদ্ধিহীনভাবে মজিদের অনুগত ও ভীতসন্ত্রস্ত।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা তার স্বামীকে কেবল স্বামী হিসেবে নয়, পরকালের দিশারি এবং পরম ক্ষমতার অধিকারী মনে করে অন্ধভাবে ভয় ও সমীহ করত। মহব্বতনগর গ্রামের সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বও ছিল একই রকম। মজিদের তৈরি করা ধর্মীয় মিথ্যাচার ও ভীতি তারা কোনো দ্বিধা বা প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নিয়েছিল। রহিমার মতোই গ্রামবাসীও ছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন, মজিদের প্রতি আস্থাশীল ও শোষণের শিকার। তাই গ্রামের মানুষদের রহিমারই অন্য সংস্করণ বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয়—ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং প্রভাবশালী শ্রেণির সাথে ধর্মীয় শোষকের জোটবদ্ধতার সাথে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ নামক এক ধূর্ত ব্যক্তি মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে একটি অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীর'-এর মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। সে গ্রামের মানুষের সহজ-সরল ধর্মবিশ্বাস ও পরকালের ভয়কে পুঁজি করে নিজেকে আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী বলে জাহির করে। গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী মাতব্বর খালেক ব্যাপারী মজিদের এই আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব মেনে নেয় এবং উভয়ে মিলে সাধারণ মানুষের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণ চালায়। খালেক ব্যাপারী নিজের স্বার্থে মজিদকে রক্ষা করে এবং মজিদ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে খালেক ব্যাপারীর অন্যায় কাজগুলোকে বৈধতা দেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ধর্মব্যবসায়ীরা অলৌকিক শক্তির ভান করে প্রভাব বিস্তার করে এবং সমাজের প্রভাবশালীরা তাদের সাথে জোট বাঁধে শোষণের সুবিধার্থে। এই মূল ভাবধারাটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ও খালেক ব্যাপারীর শোষক জোটের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি স্বার্থ হাসিল করে"—মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে পুরোপুরি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ।
মানবসমাজের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর অন্যতম হলো ধর্মবিশ্বাস। স্বার্থান্বেষী মহল যখন সাধারণ মানুষের এই বিশ্বাসকে অন্ধত্ব ও কুসংস্কারে রূপান্তর করতে পারে, তখন তাদের শোষণ ও শাসন করা সহজ হয়ে পড়ে। ধর্মব্যবসায়ী এবং কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে টিকে থাকে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ একটি কাল্পনিক মাজার সৃষ্টি করে মহব্বতনগর গ্রামের অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের ধর্মান্ধতাকে উসকে দেয়। মজিদ নিজেকে খোদার প্রতিনিধি ও পীরের মাজারের খাদেম হিসেবে উপস্থাপন করে বৈষয়িক সমৃদ্ধি অর্জন করে—জমিজমা, ধনসম্পদ লাভ করে এবং দুটি বিয়ে করে গ্রামে আধিপত্য কায়েম করে। অন্যদিকে গ্রামের ধনিক শ্রেণির প্রতিনিধি খালেক ব্যাপারী নিজের জমিদারি ও পারিবারিক সংকট (যেমন প্রথম স্ত্রী আমেনাকে তালাক দেওয়া) মজিদের ধর্মের ফতোয়া দিয়ে সুবিধাজনকভাবে মেটায়। সাধারণ মানুষ মাজার ও পরকালের ভয়ে তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। উদ্দীপকেও একই বাস্তবতা উঠে এসেছে, যেখানে ধর্মব্যবসায়ীদের সাথে প্রভাবশালীরা মিলে সাধারণ মানুষকে শোষণের এক নিশ্ছিদ্র জাল তৈরি করে।
অতএব, উদ্দীপক ও 'লালসালু' উভয় প্রেক্ষাপটেই প্রমাণিত হয় যে, সমাজপতি ও ধর্মব্যবসায়ীরা যুগ যুগ ধরে মানুষের ধর্মান্ধতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও