সমাজকর্ম ২য় পত্র • সরকারি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

গ্রামীণ হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও অসুবিধাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে একটি সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করা। হয়। উক্ত কর্মসূচির আওতায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ঋণ, সামাজিক শিক্ষা ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

  1. ক)

    USS এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    শহর সমাজসেবার একটি কর্মসূচি বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন সরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে উক্ত কর্মসূচি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    USS এর পূর্ণরূপ হলো Urban Social Service (শহর সমাজসেবা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শহর সমাজসেবার একটি অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হলো 'দক্ষতা উন্নয়নমূলক ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ'। এই কর্মসূচির আওতায় শহরের দরিদ্র, বেকার ও কর্মহীন নারী-পুরুষদের সেলাই, হস্তশিল্প, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স মেরামত ইত্যাদি বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ট্রেডে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, যাতে তারা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের সরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম হিসেবে 'পল্লী সমাজসেবা' (Rural Social Service - RSS) কার্যক্রমকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন, অসচ্ছল ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ১৯৭৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে 'পল্লী সমাজসেবা (RSS)' কর্মসূচি চালু করা হয়। উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য—যেমন ১৯৭৪ সালে গ্রহণ, গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক শিক্ষা প্রদান—সম্পূর্ণরূপে পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের মৌলিক উদ্দেশ্যাবলি ও সেবাসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে পল্লী সমাজসেবা (RSS) কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী ও সফল সরকারি উদ্যোগ। নিম্নে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. দারিদ্র্য বিমোচন ও সুদমুক্ত ঋণ: এ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ হতদরিদ্রদের জামানতবিহীন ও সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) প্রদান করা হয়। এই ঋণের সাহায্যে দরিদ্র মানুষ কৃষি, পশুপালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
    ২. আত্মকর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি: বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামের বেকার যুবক ও নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
    ৩. নারী ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ নারীদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের ফলে পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নারীদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ৪. সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা, স্যানিটেশন এবং সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

    তবে সম্পদের অপ্রতুলতা, তদারকির অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মতো কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সার্বিক মূল্যায়নে বলা যায়, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে পল্লী সমাজসেবা কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন