গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মাহফুজার বয়স ৩০৩০ বছর, ওজন ৫০৫০ কেজি। তার স্বামীর মৃত্যুর পর সে একটি ইট ভাটায় কাজ করে সংসার চালায়। মাহফুজা অসুস্থ হওয়ায় সে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তাকে বলেন, শারীরিক পরিশ্রম ও অন্যান্য বিষয়ের উপর শক্তি চাহিদার বিবেচ্য বিষয় নির্ভর করে।
- ক)(1)
কিলোক্যালরি কী?
- খ)(2)
দেহের গঠন মৌল বিপাক প্রভাবিত করে- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মাহফুজার শক্তির চাহিদা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ডাক্তারের শেষ লাইনটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১ কিলোগ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপশক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ১ কিলোক্যালরি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেহের গঠন বা শারীরিক উপাদানের তারতম্য মৌল বিপাকীয় হারকে (BMR) সরাসরি প্রভাবিত করে। সাধারণত মেদহীন পেশিবহুল টিস্যুর বিপাকীয় সক্রিয়তা এডিপোজ বা চর্বি কলার তুলনায় অনেক বেশি। তাই যে ব্যক্তির দেহে পেশির অনুপাত বেশি তার মৌল বিপাকীয় হার বেশি হয় এবং দেহে চর্বির পরিমাণ বেশি হলে মৌল বিপাকীয় হার তুলনামূলকভাবে কম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুসারে মাহফুজার বয়স ৩০ বছর এবং ওজন ৫০ কেজি। তিনি ইটভাটায় কাজ করায় তিনি একজন ভারী পরিশ্রমী নারী।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ভারী পরিশ্রমী নারীর দৈনিক শক্তির চাহিদা প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ৪৫-৫০ কিলোক্যালরি (বা আদর্শ মান অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ২৫০০ কিলোক্যালরি)।
মাহফুজার ওজন ৫০ কেজি হলে:
প্রতি কেজিতে গড়ে ৪৫-৫০ কিলোক্যালরি হিসেবে তার দৈনিক শক্তি চাহিদা = ৫০ × ৪৫ থেকে ৫০ × ৫০ = ২২৫০ থেকে ২৫০০ কিলোক্যালরি।
সুতরাং, মাহফুজার সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক আনুমানিক ২২৫০ - ২৫০০ কিলোক্যালরি শক্তি প্রয়োজন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডাক্তারের বক্তব্যটি ছিল: "শারীরিক পরিশ্রম ও অন্যান্য বিষয়ের উপর শক্তি চাহিদার বিবেচ্য বিষয় নির্ভর করে"—বক্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।
মানবদেহে শক্তির চাহিদা একক কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং একাধিক বিষয়ের সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়:
১. শারীরিক পরিশ্রম: হালকা পরিশ্রমে শক্তি চাহিদা কম এবং ইটভাটায় কাজ করার মতো ভারী শারীরিক পরিশ্রমে প্রচুর ক্যালরির প্রয়োজন হয়।
২. বয়স ও লিঙ্গ: বয়োবৃদ্ধির সাথে বিপাকীয় হার কমে শক্তি চাহিদা কমে। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের শক্তি চাহিদা বেশি থাকে।
৩. দেহের ওজন ও উচ্চতা: দেহের আয়তন ও পৃষ্ঠদেশের ক্ষেত্রফল বেশি হলে তাপ অপচয় বেশি হয়, ফলে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়।
৪. শারীরবৃত্তীয় অবস্থা: গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে অতিরিক্ত শক্তি ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়।
৫. জলবায়ু ও পরিবেশ: অতিরিক্ত ঠান্ডায় দেহ উষ্ণ রাখতে শক্তি চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
অতএব, ব্যক্তির শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াও এই নানাবিধ বিবেচ্য বিষয়ের ওপর মোট শক্তির চাহিদা নির্ভরশীল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও