সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

সহপাঠ প্রশ্ন

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দীন আহমদ তার দোকানে ভাইয়ের ছেলে শরীফুলকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন। শরীফুল প্রথম দিকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করলেও ধীরে ধীরে চাচার সর্বনাশের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। দোকানের অন্য কর্মচারীদের সাথে হাত মিলিয়ে বিক্রির টাকা এদিক-সেদিক করতে থাকে। দোকানে প্রচুর বেচা-কেনা হলেও মাস শেষে লোকসান আসে। মহিউদ্দীন আহমদ বিচক্ষণতার সাথে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শরীফুলের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শরীফুলসহ অন্য কর্মচারীদের বিদায় করে দিয়ে দোকানের পূর্বের অবস্থান ফিরিয়ে আনেন।

  1. ক)

    মানিকচাঁদ কত টাকা খেসারত দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    “লোকবল বাড়ুক আর না বাড়ুক আমাদের অংশীদার বাড়ল তা অবশ্য ঠিক।” ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শরীফুলের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রগুলো বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “মহিউদ্দীন আহমদ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি এক হয়নি।"-এর কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানিকচাঁদ দশ লক্ষ টাকা খেসারত দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “লোকবল বাড়ুক আর না বাড়ুক আমাদের অংশীদার বাড়ল তা অবশ্য ঠিক।”—উক্তিটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নতুন ব্যক্তির যুক্ত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘসেটি বেগমের বাড়িতে নবাববিরোধী চক্রান্তের বৈঠকে রাজা রাজবল্লভ নবাবের বিশ্বস্ত অনুচর উমিচাঁদকে তাদের ষড়যন্ত্রের দলে টানার পর এই মন্তব্য করেন। উমিচাঁদ ছিল অত্যন্ত অর্থলোভী ও স্বার্থপর ব্যক্তি। রাজবল্লভ ব্যঙ্গ করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, উমিচাঁদ দলে যোগ দেওয়ায় তাদের সামরিক বা কাজের লোকবল হয়তো তেমন বাড়েনি, কিন্তু নবাবের পতনের পর অর্জিত সম্পদ ও ক্ষমতার ভাগ বাঁটোয়ারা করার জন্য একজন নতুন অংশীদার বা ভাগীদার তৈরি হলো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শরীফুলের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীর জাফর ও নবাবের দরবারের বিশ্বাসঘাতক অমাত্যদের (যেমন রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ) চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীর জাফর নবাবের প্রধান সেনাপতি এবং আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও নবাবের অন্ধবিশ্বাস ও নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজদের সাথে গোপনে হাত মেলায়। নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা বারবার ক্ষমা করে তাকে দায়িত্ব দিলেও সে অকৃতজ্ঞের মতো দেশ ও নবাবের সর্বনাশ ডেকে আনে। রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও অন্যান্য অমাত্যরাও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং বিশ্বাসঘাতকতা করে বাংলার স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে তুলে দেয়।

    উদ্দীপকের শরীফুলও আপন চাচার অনুগ্রহে দোকানে ম্যানেজারের দায়িত্ব পায়। কিন্তু সে দায়িত্ব পালনের চেয়ে অকৃতজ্ঞের মতো চাচার সর্বনাশ করতে দোকানের অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষতি সাধনে লিপ্ত হয়। স্বজনের সঙ্গে এই বিশ্বাসঘাতকতা, আত্মসাৎ ও চক্রান্তের মানসিকতার দিক থেকে শরীফুলের সাথে মীর জাফরসহ সিরাজবিরোধীদের চরিত্র সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “মহিউদ্দীন আহমদ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি এক হয়নি।”—কারণ মহিউদ্দীন আহমদ যথাসময়ে বিচক্ষণতা ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিতে পারেননি।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশপ্রেমিক হলেও রাজনৈতিক কূটনীতি ও কঠোরতায় পিছিয়ে ছিলেন। তিনি মীর জাফর ও ষড়যন্ত্রকারীদের বারবার দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে এবং কোরআন ছুঁয়ে শপথ করিয়ে ক্ষমা করেছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও নবাব তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, বরং সেনাপতির দায়িত্বে বহাল রেখেছিলেন। সিরাজউদ্দৌলার এই দুর্বলতা, অতিরিক্ত সরলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার চূড়ান্ত পরিণতি হয়েছিল পলাশীর পরাজয় এবং নিজের করুণ মৃত্যু।

    বিপরীতে, উদ্দীপকের মহিউদ্দীন আহমদ যখনই নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভাইপো শরীফুল ও কর্মচারীদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে নিশ্চিত হন, তিনি কালবিলম্ব না করে দৃঢ় ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি শরীফুলসহ সকল ষড়যন্ত্রকারী কর্মচারীদের তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে দোকানের পূর্বের স্বাভাবিক ও লাভজনক অবস্থান ফিরিয়ে আনেন।

    অতএব, সিরাজউদ্দৌলার অতিরিক্ত আবেগ ও দুর্বল সিদ্ধান্তের বিপরীতে মহিউদ্দীন আহমদের বাস্তববাদী বিচক্ষণতা এবং তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপের কারণেই তাদের পরিণতি ভিন্ন হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন