ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব সালমান একটি ইবাদত করতে দিনে ৫ বার একটি নির্দিষ্ট স্থানে যান। তিনি বলেন, এটি আমার জান্নাতের চাবিকাঠি। অন্যদিকে, আত্মশুদ্ধির জন্য জনাব জুবায়ের ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে একটি ইবাদত পালন করেন।
- ক)(1)
‘বাকারা’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“লজ্জাশীলতা ইমানের একটি অঙ্গ”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জুবায়ের কোন ইবাদত পালন করেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সালমানের কার্যক্রমের শারীরিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বাকারা’ (البقرة) শব্দের অর্থ হলো গাভী বা গরু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লজ্জাশীলতা মানুষকে সব ধরনের পাপ, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। যার মধ্যে লজ্জা থাকে না, সে সহজেই যে কোনো পাপাচারে লিপ্ত হতে পারে। অন্তরে আল্লাহর ভয় ও মানুষের সামনে অন্যায় কাজ প্রকাশ পাওয়ার সংকোচই হলো লজ্জাশীলতা। তাই একজন ব্যক্তির পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার জন্য লজ্জাশীলতা অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জুবায়ের ‘সাওম’ (রোজা) নামক ইবাদতটি পালন করেন।
ইসলামের পরিভাষায়, সুবহে সাদিক (ভোর) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যাবতীয় পানাহার, কামাচার ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলা হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব জুবায়ের আত্মশুদ্ধির জন্য ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে ইবাদত পালন করেন, যা সাওমের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। সাওম মানুষকে কুপ্রবৃত্তি দমন করতে শেখায় এবং তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সালমান যে ইবাদতটি পালন করতে দিনে ৫ বার নির্দিষ্ট স্থানে (মসজিদে) যান, তা হলো জামায়াতের সাথে সালাত আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতকে জান্নাতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ কাজের শারীরিক ও সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শারীরিক প্রভাব: দৈনিক পাঁচবার সালাত আদায়ের মাধ্যমে শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুষম ব্যায়াম হয়। রুকু, সিজদা ও উঠাবসার ফলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, মাংসপেশি সচল থাকে এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকে। এছাড়া পাঁচবার অজু করার মাধ্যমে শরীর পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত থাকে।
সামাজিক প্রভাব: দিনে পাঁচবার মসজিদে গিয়ে জামায়াতে সালাত আদায় করার ফলে সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও একতা সৃষ্টি হয়। ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়। এতে পারস্পরিক খোঁজখবর নেওয়া ও সহমর্মিতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা দূর হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, সালমানের জামায়াতে সালাত আদায়ের কার্যক্রম শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি একটি সংহতিপূর্ণ সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও