জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : রক্ত ও সঞ্চালন • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন কী?

    (1)
  2. খ)

    এনজিওপ্লাষ্টি কেন করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির কার্যক্রম কতগুলো কপাটিকা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়— ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত অংশের কার্যকারীতা হ্রাস পেলে তা কৃত্রিমভাবেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করোনারি ধমনি কোনো কারণে অবরুদ্ধ হয়ে হৃৎপেশিতে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে হৃৎপেশির যে ক্ষতি বা টিস্যুর মৃত্যু ঘটে, তাকে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করোনারি ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমে রক্ত চলাচলের পথ সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেলে তা পুনরায় স্বাভাবিক ও প্রশস্ত করার জন্য এনজিওপ্লাষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে ওপেন-হার্ট সার্জারি ছাড়াই সংকীর্ণ ধমনিতে রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে দিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো এবং বুকব্যথা (এনজাইনা) উপশম করা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানব হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্তের একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং রক্তকে উল্টো পথে ফিরে আসা থেকে রোধ করতে বিভিন্ন কপাটিকা (Valves) কাজ করে। নিচে প্রধান কপাটিকাগুলোর কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. ট্রাইকাসপিড কপাটিকা: এটি ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি তিনটি পাল্লাবিশিষ্ট এবং ডান অলিন্দ থেকে ডান নিলয়ে রক্ত প্রবেশ করতে দেয়, কিন্তু নিলয়ের সংকোচনের সময় রক্তকে পুনরায় অলিন্দে ফিরে যেতে বাধা দেয়।

    ২. বাইকাসপিড বা মাইট্রাল কপাটিকা: এটি বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি দুটি পাল্লাবিশিষ্ট এবং বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে আসতে দেয়, কিন্তু বিপরীতমুখী প্রবাহ রোধ করে।

    ৩. পালমোনারি কপাটিকা (সেমিলুনার ভাল্ব): এটি ডান নিলয় ও পালমোনারি ধমনির সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির এবং ডান নিলয় থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসে প্রবেশ করায়, কিন্তু নিলয় শিথিল হলে রক্তকে পুনরায় ডান নিলয়ে ফিরতে দেয় না।

    ৪. অ্যাওর্টিক কপাটিকা (সেমিলুনার ভাল্ব): এটি বাম নিলয় ও মহাধমনির (অ্যাওর্টা) সংযোগস্থলে অবস্থিত। বাম নিলয় সংকোচনের সময় রক্ত মহাধমনিতে যায় এবং এটি বন্ধ হয়ে বাম নিলয়ে রক্তের পশ্চাৎমুখী প্রবাহ রোধ করে।

    এছাড়া ইউস্টেসিয়ান কপাটিকা (নিম্ন মহাশিরার মুখে) এবং থিবেসিয়ান কপাটিকা (করোনারি সাইনাসের মুখে) হৃৎপিণ্ডের রক্তপ্রবাহকে নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN), যা হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত প্রাকৃতিক পেসমেকার। এটি হৃৎস্পন্দন সৃষ্টির সংকেত বা অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি করে।

    SAN-এর কার্যকারিতা হ্রাস পেলে হৃৎস্পন্দনের ছন্দ নষ্ট হয়, স্পন্দনের গতি অত্যন্ত কমে যায় (ব্রাডিকার্ডিয়া) বা অনিয়মিত হয়ে পড়ে (অ্যারিথমিয়া)। এর ফলে মস্তিষ্কে ও সারা দেহে রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

    এই অবস্থা কৃত্রিম পেসমেকার স্থাপনের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়:
    ১. কৃত্রিম পেসমেকারের গঠন: এতে একটি লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত পালস জেনারেটর, কম্পিউটারাইজড চিপ এবং সংবেদনশীল সেন্সরযুক্ত কতগুলো সূক্ষ্ম তার (লিড) থাকে।
    ২. কার্যপদ্ধতি: শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর বুকের ত্বকের নিচে (সাধারণত কলারবোনের নিচে) জেনারেটরটি স্থাপন করা হয় এবং লিডগুলো শিরার মধ্য দিয়ে হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ বা নিলয়ের অভ্যন্তরীণ প্রাচীরের সাথে যুক্ত করা হয়।
    ৩. নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: যখন SAN প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তখন কৃত্রিম পেসমেকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি করে হৃৎপেশিকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে হৃৎপিণ্ড নিয়মিত ও ছন্দময়ভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় এবং স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন বজায় থাকে।

    অতএব, 'A' বা প্রাকৃতিক পেসমেকারের কার্যকারিতা হ্রাস পেলে কৃত্রিম পেসমেকার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন