ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান বাহিনীর অত্যাচার ও নৃশংস গণহত্যার খবর শুরুতে বিশ্ববাসীর কাছে ছিল অনেকটা অজানা। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের একজন বিশেষ দূতের তৎপরতার ফলে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যার কথা বিশ্ববাসী জানতে পারে এবং বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। বিশ্বব্যাপী গণহত্যার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিশ্ববাসী বুঝতে পারে এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং দীর্ঘদিনের শাসন, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী বাঙালির সংগ্রাম।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধকে কেন জনযুদ্ধ বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে অস্থায়ী সরকারের যে কর্মতৎপরতার পরিচয় পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের উক্ত বিশেষ দূতের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ— তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এতে সামরিক-বেসামরিক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছিল। সমগ্র জাতির এই সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই মুক্তিযুদ্ধকে 'জনযুদ্ধ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অস্থায়ী (মুজিবনগর) সরকারের বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন ও কূটনৈতিক কর্মতৎপরতার পরিচয় পাওয়া যায়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনকে পাকিস্তান বহির্বিশ্বে তাদের 'অভ্যন্তরীণ বিষয়' হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করে। কিন্তু অস্থায়ী মুজিবনগর সরকার বিশ্ববাসীর কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সক্রিয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ দূত ও প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, অস্থায়ী সরকারের একজন বিশেষ দূতের তৎপরতায় বিশ্ববাসী পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার কথা জানতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে ওঠে। মুজিবনগর সরকারের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়, গণহত্যার স্বরূপ উন্মোচন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভের পটভূমি তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের উক্ত বিশেষ দূতের (বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী) ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি লন্ডনে অবস্থান করে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রচারণা ও জনমত গঠনে নেতৃত্ব দেন। তিনি জাতিসংঘ, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, সংসদ সদস্য এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ও গণহত্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর তৎপরতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠন বাংলাদেশের পক্ষে সোচ্চার হয়। এছাড়া তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরিশেষে বলা যায়, রণাঙ্গনের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অনুকূলে বৈশ্বিক সমর্থন সৃষ্টি ও পাকিস্তানের বর্বরতাকে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত করতে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কূটনৈতিক প্রয়াস অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও