অর্থনীতি ২য় পত্র • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রত্যেকটি উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশও তার বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করে। উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে জনশক্তি, পণ্যসামগ্রী রপ্তানির চেষ্টা করে। আবার বিভিন্ন বন্ধু- প্রতীম দেশ ও দাতা সংস্থা থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে।
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকা তৈরি করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে নিয়মমাফিক যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্মের কেনাবেচা বা লেনদেন সম্পাদিত হয়, তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পণ্য অতীতে নিয়মিতভাবে বিদেশে রপ্তানি হতো না, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলে।
যেমন— তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, হিমায়িত খাদ্য (চিংড়ি), চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক সামগ্রী, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ইত্যাদি। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই বর্তমানে এসব অপ্রচলিত পণ্য থেকে অর্জিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের পণ্যসামগ্রী রপ্তানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যসমূহকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
১. ঐতিহ্যবাহী বা প্রচলিত রপ্তানি পণ্য (Traditional Export Items):
ক. কাঁচাপাট
খ. পাটজাত দ্রব্য (চট, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি)
গ. চা
ঘ. কাগজ ও নিউজপ্রিন্ট২. অ-ঐতিহ্যবাহী বা অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য (Non-traditional Export Items):
ক. তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার
খ. হিমায়িত খাদ্য (চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ)
গ. চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি
ঘ. কৃষিজাত পণ্য (শাকসবজি, ফলমূল ও মসলা)
ঙ. ওষুধ ও রাসায়নিক পণ্য
চ. হস্তশিল্পজাত দ্রব্য
ছ. সিরামিক ও মেলামাইন সামগ্রী
জ. জাহাজ ও নৌযান
ঝ. তথ্যপ্রযুক্তি (সফটওয়্যার ও আইটি সেবা)বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য অপ্রচলিত পণ্য থেকে আসে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। নিম্নে এর স্বপক্ষে যুক্তি প্রদান করা হলো:
১. আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন: বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, স্বাবলম্বী অর্থনীতি গড়ে তোলে এবং পরনির্ভরশীলতা হ্রাস করে। বিপরীতে, বৈদেশিক সাহায্য দেশকে ঋণগ্রস্ত ও পরনির্ভরশীল করে তোলে।
২. শর্তহীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড: বৈদেশিক বাণিজ্য একটি পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক চুক্তি। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্যের সাথে দাতা দেশ বা সংস্থার অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কঠিন শর্ত জড়িত থাকে, যা প্রায়শই দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের অনুকূল হয় না।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: রপ্তানিমুখী শিল্প (যেমন— তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্প) গড়ে ওঠার ফলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সাহায্য মূলত বাজেট ঘাটতি বা প্রকল্প অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়, যা সরাসরি ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে না।
৪. ঋণের বোঝা হ্রাস: বৈদেশিক সাহায্য অনুদান বা ঋণ হিসেবে আসে, যা সুদসহ পরিশোধ করতে হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা বৃদ্ধি করে। কিন্তু রপ্তানি বাণিজ্য থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ নিজস্ব ও জাতীয় সম্পদ।
৫. দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টিকে থাকার জন্য উৎপাদকদের দক্ষতা ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক অর্থনীতিকে আধুনিকায়নে সহায়তা করে।
সুতরাং, সাময়িক সংকট উত্তরণে বৈদেশিক সাহায্য ভূমিকা রাখলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও