রসায়ন ২য় পত্র • পরিবেশ রসায়ন • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে 5% সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করা হয়। কারখানাটি প্রতি ঘণ্টায় 250 kg কয়লা ব্যবহার করে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিম্নরূপ বিক্রিয়া ঘটে:
- ক)(1)
আংশিক চাপ কাকে বলে?
- খ)(2)
ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ কীভাবে ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
25°C তাপমাত্রায় কারখানাটি প্রতিদিন কত ঘনমিটার B যৌগ উৎপন্ন করছে? নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
A ও B উভয় যৌগ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো গ্যাস মিশ্রণের একটি উপাদান গ্যাস মিশ্রণের সম্পূর্ণ আয়তন একা দখল করলে যে চাপ প্রয়োগ করে, তাকে ওই উপাদানের আংশিক চাপ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ মূলত প্রাকৃতিকভাবে আর্সেনিকযুক্ত খনিজ শিলাস্তর ভেঙে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ঘটে থাকে। ভূগর্ভস্থ পাথরে আর্সেনোপাইরাইট (FeAsS) খনিজ হিসেবে থাকে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে সেখানে বাতাসের অক্সিজেনের প্রবেশ ঘটে, যার ফলে আর্সেনোপাইরাইট জারিত হয়ে পানিতে দ্রবণীয় আর্সেনাইট ও আর্সেনেট যৌগে পরিণত হয় এবং ভূগর্ভস্থ পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে আর্সেনিক দূষণ ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুসারে,
কয়লা পোড়ালে কয়লার মূল উপাদান কার্বন (C) এবং ভেজাল হিসেবে থাকা সালফার (S) জারিত হয়।
C + O2 → CO2 (g) [A রৈখিক অণু, যা চুনের পানির সাথে বিক্রিয়ায় CaCO3 এর সাদা অধঃক্ষেপ দেয়]
S + O2 → SO2 (g) [B গ্যাস]কারখানাটিতে কয়লা ব্যবহারের হার = 250 kg/ঘণ্টা
প্রতিদিনে (24 ঘণ্টায়) মোট ব্যবহৃত কয়লার পরিমাণ = 250 × 24 = 6000 kg
কয়লায় সালফারের (S) পরিমাণ = 5%
সুতরাং, প্রতিদিনে সালফারের পরিমাণ, w = 6000 × (5/100) = 300 kg = 300 × gসালফারের পারমাণবিক ভর, M = 32 g/mol
উৎপন্ন SO2 এর মোল সংখ্যা, n = w / M = (300 × g) / (32 g/mol) = 9375 molতাপমাত্রা, T = 25°C = (25 + 273.15) K = 298.15 K (বা 298 K)
চাপ, P = 1 atm = 101.325 kPa
সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক, R = 8.314 J·mol⁻¹·K⁻¹আদর্শ গ্যাস সমীকরণ মতে, V = nRT / P
V = (9375 mol × 8.314 J·mol⁻¹·K⁻¹ × 298.15 K) / 101325 Pa
≈ 229.28 m³ (অথবা T = 298 K ধরলে 229.17 m³)অতএব, 25°C তাপমাত্রায় কারখানাটি প্রতিদিন প্রায় 229.28 ঘনমিটার B (SO2) গ্যাস উৎপন্ন করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উৎপন্ন A যৌগটি হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং B যৌগটি হলো সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2)। উভয় গ্যাসই পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
১. A যৌগ অর্থাৎ CO2 এর ক্ষতিকর প্রভাব:
- CO2 একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। বায়ুমণ্ডলে এর মাত্রা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) ঘটছে।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তন ঘটছে।
- সমুদ্রের পানিতে CO2 দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড গঠন করে সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি করছে, যা সামুদ্রিক প্রবাল ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।
২. B যৌগ অর্থাৎ SO2 এর ক্ষতিকর প্রভাব:
- SO2 একটি ক্ষতিকর অম্লীয় ও বিষাক্ত গ্যাস। এটি বায়ুমণ্ডলে পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে (SO2 + H2O → H2SO3; পরবর্তীতে এটি H2SO4-এ রূপান্তরিত হয়)।
- অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটির pH হ্রাস পায়, উর্বরতা নষ্ট হয়, গাছপালা ধ্বংস হয় এবং জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। ঐতিহাসিক সৌধ বা স্থাপনার ক্ষয় হয়।
- মানুষের শ্বাসযন্ত্রে SO2 প্রবেশ করলে ফুসফুসের প্রদাহ, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
অতএব, উপযুক্ত যুক্তিসমূহের আলোকে বলা যায় যে CO2 ও SO2 উভয় যৌগই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও