অর্থনীতি ২য় পত্র • জনসংখ্যা ও মানব সম্পদ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি-সংক্রান্ত নিম্নের ছকটি লক্ষ করো-

বছর০২৫৫০৭৫১০০..২০০..৩০০
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার১২৪৮১৬..২৫৬..৪০৯৬
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার১২৩৪৫..৯..১৩
  1. ক)

    আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    ভূ-প্রকৃতি দ্বারা জনসংখ্যা বৃদ্ধি কীভাবে প্রভাবিত হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হারের সম্পর্কটি জনসংখ্যা সম্পর্কিত কোন তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনসংখ্যা তত্ত্বটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতটুকু প্রাসঙ্গিক? আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিজস্ব অর্থায়ন ও উদ্যোগে কোনো ব্যক্তির নিজে নিজের কর্মসংস্থান বা কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের ভূ-প্রকৃতি বা ভৌগোলিক পরিবেশ সেখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বসবাসযোগ্যতা এবং জনসংখ্যার বিন্যাস ও বৃদ্ধিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

    সমতল ও উর্বর ভূমি সাধারণত কৃষিকাজ, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ফলে এসব অঞ্চলে জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি বেশি হয়। পক্ষান্তরে, পাহাড়ি, বরফাবৃত বা মরুময় বন্ধুর অঞ্চলের রুক্ষ প্রকৃতির কারণে জীবনধারণ কঠিন হওয়ায় সেখানে মানুষের বসতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম থাকে। এভাবেই ভূ-প্রকৃতি জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হারের সম্পর্কটি বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাসের প্রদত্ত 'ম্যালথাসীয় জনসংখ্যা তত্ত্ব'-এর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত ম্যালথাসের 'An Essay on the Principle of Population' গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকলে একটি দেশের জনসংখ্যা প্রতি ২৫ বছরে দ্বিগুণ হয়ে জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২, ৬৪, ১২৮, ২৫৬...) বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হওয়ার কারণে খাদ্য উৎপাদন বাড়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে, অর্থাৎ গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯...)।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ২৫ বছর অন্তর জনসংখ্যা জ্যামিতিক প্রগতিতে (১, ২, ৪, ৮, ১৬...) বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০ বছরে ৪০৯৬-এ পৌঁছেছে এবং খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক প্রগতিতে (১, ২, ৩, ৪, ৫...) বৃদ্ধি পেয়ে ১৩-তে পৌঁছেছে। ম্যালথাসের তত্ত্বের হুবহু এই গাণিতিক রূপটিই উদ্দীপকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত তত্ত্বটি হলো ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই তত্ত্বটির প্রাসঙ্গিকতা আংশিক সত্য হলেও সার্বিকভাবে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। নিম্নে এর বিশদ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. তত্ত্বটির প্রাসঙ্গিকতার দিক:

    • অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ: বাংলাদেশ একটি অধিক জনবহুল দেশ এবং এখানে জমির পরিমাণ সীমিত। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যা ম্যালথাসের আশঙ্কার সাথে কিছুটা মেলে।
    • প্রজনন ক্ষমতা ও খাদ্যের চাহিদা: অতীতে চিকিৎসা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাব থাকায় এ দেশের জনসংখ্যা ম্যালথাসের ধারণার মতো উচ্চগতিতেই বাড়ছিল।

    ২. তত্ত্বটির অপ্রাসঙ্গিকতার দিক:

    • আধুনিক কৃষিতে প্রযুক্তি ও খাদ্য বিপ্লব: ম্যালথাস প্রযুক্তির অবদান বিবেচনা করেননি। কিন্তু বাংলাদেশ উচ্চফলনশীল বীজ (HYV), রাসায়নিক সার, সেচ ব্যবস্থা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে খাদ্য উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। স্বাধীনতার সময়ের চেয়ে জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চার গুণেরও বেশি, ফলে খাদ্য ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেনি।
    • জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস: শিক্ষা, সচেতনতা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জ্যামিতিক হারে না বেড়ে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ১.৩%-এর নিচে নেমে এসেছে।
    • মানবসম্পদ উন্নয়ন: জনসংখ্যা শুধু ভোক্তা নয়, দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে তা দেশের অর্থনীতি এবং প্রবাসে শ্রম রপ্তানির মাধ্যমে দেশের আশীর্বাদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
    • প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ ভিন্ন: ম্যালথাস বলেছিলেন প্রাকৃতিক উপায়ে (মহামারী, দুর্ভিক্ষ) জনসংখ্যা হ্রাস পায়, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবা এ দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হচ্ছে।

    অতএব, পরিশেষে বলা যায় যে, ভূমির সীমাবদ্ধতার কারণে সতর্কতামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যালথাসের তত্ত্বের কিছুটা তাৎপর্য থাকলেও, আধুনিক বিজ্ঞান, কৃষি প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তত্ত্বটির হুবহু গাণিতিক বা জ্যামিতিক প্রয়োগযোগ্যতা নেই।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন