সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অলৌকিক ষাঁড়ের পুকুর। মনোবাসনা পূরণের আশায় টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, দুধসহ বিভিন্ন জিনিস মানত করা হয় এই পুকুরে। পুকুরের খাদেম আমীর আলী মানতের সবকিছু সংগ্রহ করে রাতারাতি প্রচুর সম্পদের মালিক হচ্ছেন। 'মানতের টাকা ফেলা হয় জলে, ধরা পড়ে খাদেমের জালে।'
- ক)(1)
ধলা মিয়াকে কে পানি পড়া আনতে পাঠায়?
- খ)(2)
'ব্যাপারটা ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাবার মতো।'-বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ষাঁড়ের পুকুর'-কে 'লালসালু' উপন্যাসের কীসের সঙ্গে তুলনা করা যায়? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের খাদেম এবং 'লালসালু'র মজিদের প্রতিষ্ঠার পিছনে মানুষের অন্ধ বিশ্বাসই দায়ী।"-'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধলা মিয়াকে তার খালা (খালেকুজ্জামানের প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি) পানি পড়া আনতে পাঠায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ব্যাপারটা ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাবার মতো।'—উক্তিটি দ্বারা যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা প্রধান ব্যক্তিকে এড়িয়ে সরাসরি অন্য কারও সাহায্য নেওয়ার অনুচিত প্রচেষ্টাকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি নিঃসন্তান থাকায় সন্তান কামনায় মজিদের কাছে না গিয়ে পার্শ্ববর্তী আওয়ালপুরের পীর সাহেবের পানি পড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের একচ্ছত্র ধর্মীয় নেতা ও আধ্যাত্মিক অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও তাকে না জানিয়ে ভিনগ্রামের পীরের শরণাপন্ন হওয়াকে আমেনা বিবির ভাই ধলা মিয়া ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো অসঙ্গত ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বলে মনে করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ষাঁড়ের পুকুর'-কে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের তৈরি 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার'-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, নিঃস্ব ও কপর্দকহীন মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি অখ্যাত কবরকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে প্রচার করে। সে কবরটিকে লাল সালু কাপড়ে ঢেকে দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও অন্ধবিশ্বাস ঢুকিয়ে দেয়। গ্রামবাসী তাদের বিভিন্ন বিপদ-আপদ, রোগবালাই ও মনোকষ্ট থেকে মুক্তি পেতে মাজারটিতে এসে মানত করে এবং অর্থ ও অন্যান্য উপঢৌকন দেয়।
উদ্দীপকের গাজীপুরের কালিয়াকৈরের 'ষাঁড়ের পুকুর'-টিও ঠিক একইভাবে মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিক ধারণাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে। মনোবাসনা পূরণের জন্য মানুষ সেই পুকুরে অর্থ-সম্পদ, হাঁস-মুরগি, দুধ ইত্যাদি মানত করে। তাই লালসালু উপন্যাসের ভণ্ড মাজার এবং উদ্দীপকের অলৌকিক পুকুর উভয়েই সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অন্ধবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে পরস্পর তুলনীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের খাদেম এবং 'লালসালু'র মজিদের প্রতিষ্ঠার পিছনে মানুষের অন্ধ বিশ্বাসই দায়ী।"—মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের সহজ-সরল ও ধর্মভীরু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অন্তরের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। সে একটি নামহীন কবরকে মিথ্যা মোদাচ্ছের পীরের মাজার বানিয়ে মানুষের মনে খোদার গজবের ভয় ঢুকিয়ে দেয়। মানুষ নিজের মঙ্গল ও পাপমুক্তির জন্য সেই মাজারে মানত করে এবং মজিদকে ভক্তিভরে নজর-নেওয়াজ দেয়। মানুষের এই নির্বিচার ও অন্ধ আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করেই মজিদ গ্রামে বাড়ি-গাড়ি, জমিজমা ও দ্বিতীয় বিয়ে করে একচ্ছত্র প্রতাপশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, কালিয়াকৈরের মানুষের মধ্যে একটি পুকুরকে নিয়ে অলৌকিক ষাঁড়ের অন্ধবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। মানুষ তাদের নানা মনোবাসনা পূরণের আশায় পুকুরে মূল্যবান জিনিস মানত করে। পুকুরের খাদেম আমীর আলী সেই অন্ধবিশ্বাসকে নিজের উপার্জনের হাতিয়ার বানিয়ে বিনা পরিশ্রমে মানতের সব অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়।
অতএব, উদ্দীপকের খাদেম আমীর আলী এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ—উভয়ের প্রতিষ্ঠা ও সম্পদশালী হওয়ার মূল চালিকাশক্তি ছিল সাধারণ মানুষের যুক্তিহীন অন্ধবিশ্বাস ও অজ্ঞতা। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও