অর্থনীতি ২য় পত্র • মুদ্রাস্ফীতি • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি দেশের ভোগ্যপণ্যের দাম ও পরিমাণ নিম্নরূপ:দেশটির সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কর হার এবং ব্যাংক হার বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
| দ্রব্যসমূহ | ২০১৭ | ২০১৯ |
|---|---|---|
| দাম (টাকা) | পরিমাণ (একক) | দাম (টাকা) |
| A | ৩২ | ৩ |
| B | ২৬ | ২ |
| C | ৬৪ | ১ |
| D | ৩০ | ৬ |
| E | ১৭ | ২ |
- ক)(1)
উল্লম্ফ মুদ্রাস্ফীতি কী?
- খ)(2)
একটি দেশের জন্য মুদ্রাস্ফীতি কি সবসময় খারাপ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ব্যাংক হারকে কেন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বলা হয়? উদ্দীপক অনুসারে উত্তর দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বিষয়টি কর্মসংস্থন ও বিনিয়োগের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্যের স্তর যখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় (সাধারণত তিন অঙ্কের বা তার বেশি হারে), তখন তাকে উল্লম্ফ বা অতি-মুদ্রাস্ফীতি (Hyperinflation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, একটি দেশের জন্য মুদ্রাস্ফীতি সবসময় খারাপ নয়।
মৃদু বা সহনীয় মাত্রার মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে। মৃদু মুদ্রাস্ফীতি থাকলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করে, যা তাদের নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করে। ফলে অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। তবে মুদ্রাস্ফীতি যদি মাত্রাতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত হয়, তখনই তা জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে এবং অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে সুদের হারে ঋণ প্রদান করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক হার বৃদ্ধি একটি অন্যতম কার্যকরী হাতিয়ার।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে প্রতিটি দ্রব্যের (A, B, C, D, E) দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির লক্ষণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের গ্রাহকদের ঋণের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হয়, ফলে বাজারে ঋণের প্রবাহ বা অর্থের যোগান সংকুচিত হয়। অর্থের যোগান কমলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়, যা ক্রমাগত বেড়ে চলা দ্রব্যমূল্যের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ কারণে ব্যাংক হারকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়টি মূলত মুদ্রাস্ফীতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে গৃহীত সংকোচনমূলক নীতি। এটি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের ওপর বহুমুখী ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. স্বল্পমেয়াদে মৃদু মুদ্রাস্ফীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমান উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার 'কর হার বৃদ্ধি' এবং 'ব্যাংক হার বৃদ্ধি'র মতো সংকোচনমূলক আর্থিক ও রাজস্ব নীতি গ্রহণ করেছে।
২. ব্যাংক হার বৃদ্ধির ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধনের খরচ (cost of borrowing) বৃদ্ধি পায়, ফলে নতুন শিল্প স্থাপন বা ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত ও হ্রাস পায়।
৩. একইভাবে করের হার বাড়ানোর ফলে উৎপাদকদের মুনাফার অংশ হ্রাস পায় এবং সাধারণ জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় (disposable income) কমে যায়। আয় কমায় সামগ্রিক ভোগ ব্যয় হ্রাস পায়, যার ফলে বাজারে দ্রব্যের চাহিদা কমে যায়। চাহিদা ও লাভ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হন।
৪. বিনিয়োগ ও সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থানের ওপর। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ফলে স্বল্পমেয়াদে বেসরকারি বিনিয়োগ হ্রাস পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও