উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • সামষ্টিক পর্যায়ে উৎপাদন • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

দুইটি দেশের কিছু তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলো:

ক দেশ (কোটি টাকা)খ দেশ (কোটি টাকা)
মোট দেশজ উৎপাদন৪০০
সম্পত্তির অবচয়১২০
পরোক্ষ কর৪০
হস্তান্তর পাওনা৪০
সরকারের উদ্বৃত্ত মুনাফা২০
সরকার প্রদত্ত ভর্তুকি৬০
জনসংখ্যা৪ কোটি
  1. ক)

    মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) কী?

    (1)
  2. খ)

    নিট দেশজ উৎপাদন (NDP) কীভাবে নির্ণয় করা যায়?

    (2)
  3. গ)

    দেশ দুটির জাতীয় আয় নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দেশ দুটির অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের মোট দ্রব্য ও সেবার আর্থিক বা বাজারমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) থেকে মূলধনি সামগ্রীর ব্যবহারজনিত অবচয় বা ক্ষয়পূরণজনিত ব্যয় (Depreciation বা Capital Consumption Allowance - CCA) বাদ দিয়ে নিট দেশজ উৎপাদন (NDP) নির্ণয় করা যায়।

    সূত্রের সাহায্যে:
    NDP = GDP - অবচয়জনিত খরচ (CCA বা D)।
    উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও স্থায়ী সম্পত্তির যে স্বাভাবিক ক্ষয় হয়, তা GDP থেকে বিয়োগ করলেই নিট দেশজ উৎপাদন পাওয়া যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেশ দুটির জাতীয় আয় (উপাদান মূল্যে বা সাধন মূল্যে জাতীয় আয়/নিট জাতীয় আয়) নির্ণয় করা হলো:

    আমরা জানি,
    জাতীয় আয় (NI) = GDP - সম্পত্তির অবচয় (CCA) - পরোক্ষ কর (IT) + সরকারি ভর্তুকি (Sub)
    (নোট: নিট বৈদেশিক উপাদান আয় উল্লেখ না থাকায় GDP-কে GNP-এর ভিত্তি ধরে হিসাব করা হলো এবং হস্তান্তর পাওনা ও সরকারি উদ্বৃত্ত মুনাফা জাতীয় আয়ে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হয় না)।

    ‘ক’ দেশের জাতীয় আয়:
    জাতীয় আয় = ৪০০ - ১২০ - ৪০ + ৬০
    = ৩০০ কোটি টাকা।

    ‘খ’ দেশের জাতীয় আয়:
    জাতীয় আয় = ৬০০ - ১২০ - ৮০ + ৮০
    = ৪৮০ কোটি টাকা।

    সুতরাং, ‘ক’ দেশের জাতীয় আয় ৩০০ কোটি টাকা এবং ‘খ’ দেশের জাতীয় আয় ৪৮০ কোটি টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশ দুটির মাথাপিছু জাতীয় আয় নির্ণয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হলো:

    আমরা জানি,
    মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয় / মোট জনসংখ্যা

    ‘গ’ হতে প্রাপ্ত:
    ‘ক’ দেশের জাতীয় আয় = ৩০০ কোটি টাকা
    ‘ক’ দেশের জনসংখ্যা = ৪ কোটি
    ∴ ‘ক’ দেশের মাথাপিছু আয় = ৩০০ কোটি / ৪ কোটি = ৭৫ টাকা (বা ৭৫ কোটি/কোটি একক)।

    ‘খ’ দেশের জাতীয় আয় = ৪৮০ কোটি টাকা
    ‘খ’ দেশের জনসংখ্যা = ৬ কোটি
    ∴ ‘খ’ দেশের মাথাপিছু আয় = ৪৮০ কোটি / ৬ কোটি = ৮০ টাকা।

    মূল্যায়ন:
    মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে দেখা যায়, ‘ক’ দেশের মাথাপিছু আয় ৭৫ টাকা এবং ‘খ’ দেশের মাথাপিছু আয় ৮০ টাকা। ফলে ‘ক’ দেশের তুলনায় ‘খ’ দেশের মাথাপিছু আয় ৫ টাকা বেশি।

    একটি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। যেহেতু ‘খ’ দেশের মাথাপিছু আয় তুলনামূলকভাবে বেশি, তাই ‘ক’ দেশের চেয়ে ‘খ’ দেশের জনগণের গড় জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো ও উন্নত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন