সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    "উচু-নিচু শ্রোণীর ক্রমানুসারে সংগঠিত জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নতাই সামাজিক স্তরবিন্যাস" -উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    দাসপ্রথা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে।

    (3)
  4. ঘ)

    ”আধুনিক সমাজে ভিন্ন ধরনের সামাজিক স্তরিবিন্যাস লক্ষণীয়”-ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উঁচু-নিচু শ্রেণির ক্রমানুসারে সংগঠিত জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নতাই সামাজিক স্তরবিন্যাস"—উক্তিটি সমাজবিজ্ঞানী পি. এ. সরোকিনের (Pitirim A. Sorokin)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দাসপ্রথা হলো সামাজিক স্তরবিন্যাসের চরম বা চরমপন্থী রূপ, যেখানে একদল মানুষ আইনত অন্য একজন মানুষের মালিকানাধীন সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো।

    দাসপ্রথায় দাসদের কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা মানবিক অধিকার থাকত না। মনিব ইচ্ছানুযায়ী দাসকে ক্রয়-বিক্রয়, খাটানো এমনকি হত্যা পর্যন্ত করতে পারত। দাস তার শ্রমের পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হতো এবং সম্পূর্ণভাবে প্রভুর ইচ্ছাধীন ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাসের অন্যতম রূপ 'জাতিভেদ প্রথা' বা 'বর্ণপ্রথা'র (Caste System) ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ভারতীয় সনাতন সমাজে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই চারটি প্রধান বর্ণে সমাজ বিভক্ত ছিল।

    জাতিভেদ প্রথার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. অর্জিত নয়, আরোপিত মর্যাদা: জাতিভেদ প্রথায় একজন ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয়। ব্যক্তি তার যোগ্যতা বা কর্মের মাধ্যমে এই স্তর পরিবর্তন করতে পারে না।
    ২. অন্তর্বিবাহ প্রথা: এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান নিয়ম হলো নিজ বর্ণের বা জাতের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন করা (Endogamy)। ভিন্ন জাতে বিবাহ সাধারণত সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ।
    ৩. নির্দিষ্ট পেশা: সনাতন জাতিভেদ ব্যবস্থায় প্রতিটি বর্ণের নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশা নির্ধারিত থাকে, যা বংশপরম্পরায় চলে আসে। যেমন—ব্রাহ্মণদের ধর্মীয় আচার ও শিক্ষাদান, ক্ষত্রিয়দের দেশরক্ষা বা শাসনকাজ ইত্যাদি।
    ৪. স্তরবিন্যাস ও বৈষম্য: এটি একটি কঠোরভাবে স্তরভিত্তিক (Hierarchical) ও বদ্ধ (Closed) ব্যবস্থা, যেখানে ব্রাহ্মণরা সর্বোচ্চ এবং শূদ্ররা সর্বনিম্ন মর্যাদায় অবস্থান করত এবং স্পর্শের শুচিতা-অশুচিতা কঠোরভাবে মানা হতো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিভেদ প্রথার মতো সনাতন ও বদ্ধ স্তরবিন্যাসের বিপরীতে আধুনিক সমাজে স্তরবিন্যাসের প্রকৃতি একেবারেই ভিন্ন ও উন্মুক্ত; প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।

    আধুনিক সমাজে সামাজিক স্তরবিন্যাস মূলত 'শ্রেণি' (Social Class) ও 'মর্যাদা গোষ্ঠী'র (Status Group) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এর মূল ভিত্তি জন্ম বা ধর্ম নয়, বরং অর্থনৈতিক অবস্থান, শিক্ষা, মেধা, পেশাগত দক্ষতা ও অর্জিত ক্ষমতা। আধুনিক স্তরবিন্যাসের ধরনগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. উন্মুক্ত স্তরবিন্যাস (Open Stratification): আধুনিক সমাজে স্তরবিন্যাস অত্যন্ত নমনীয় ও উন্মুক্ত। এখানে ব্যক্তির জন্ম নয়, বরং ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অর্জনের মাধ্যমে স্তর পরিবর্তনের সুযোগ থাকে, যা সামাজিক গতিশীলতা (Social Mobility) নিশ্চিত করে।
    ২. অর্থনৈতিক শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন: আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে সমাজ প্রধানত উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত—এই ধরনের অর্থনৈতিক শ্রেণিতে বিভক্ত।
    ৩. বহুমুখী মাত্রা (কার্ল মার্ক্স ও ম্যাক্স ওয়েবারের ধারণা): ওয়েবারের মতে, আধুনিক সমাজে স্তরবিন্যাস কেবল অর্থনৈতিক শ্রেণি নয়; বরং ক্ষমতা (Power), মর্যাদা (Prestige/Status) এবং দলের (Party) সমন্বয়ে বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করে।
    ৪. প্রযুক্তি ও মেধাভিত্তিক স্তরবিন্যাস (Meritocracy): আধুনিক শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মেধা, বিশেষায়িত জ্ঞান ও পেশাগত নৈপুণ্যের ভিত্তিতে নতুন নতুন সামাজিক স্তরের (যেমন—আইটি বিশেষজ্ঞ, কর্পোরেট নির্বাহী ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়েছে।

    অতএব, প্রাচীন বা ঐতিহ্যবাহী সমাজের অনমনীয় ও বংশানুক্রমিক জাতিভেদ প্রথার তুলনায় আধুনিক সমাজের স্তরবিন্যাস গতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং ভিন্নধর্মী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন