সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ফরাসী বিপ্লবোত্তর সমাজের বাস্তবতায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি জ্ঞানের আলাদা শাখা হিসেবে 'ক' বিষয়টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। বিষয়টি আধুনিক ও গতিশীল বিজ্ঞান। সমাজের সকল দিক এর আলোচনার বিষয়বস্তু। পরিকল্পিত ও উন্নত সমাজ গড়তে বিষয়টি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশে বিষয়টির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ক)(1)
সামাজিক জনবিজ্ঞান কী?
- খ)(2)
কোন বিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' বিষয়টির পরিচয় ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পরিকল্পিত ও উন্নত সমাজ গড়তে 'ক' বিষয়টি কীভাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যার আকার, গঠন, বণ্টন এবং এর সাথে বিভিন্ন সামাজিক উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে যে শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়, তাকে সামাজিক জনবিজ্ঞান (Social Demography) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানকে একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ (Value-free) বিজ্ঞান বলা হয়।
মূল্যবোধ নিরপেক্ষতা বলতে কোনো গবেষণায় ব্যক্তিগত ভালো-মন্দ, পক্ষপাতিত্ব বা আবেগ দূরে রেখে বাস্তব অবস্থাকে হুবহু তুলে ধরাকে বোঝায়। সমাজবিজ্ঞান সমাজকে যেমন, ঠিক সেভাবেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করে; সমাজ কেমন হওয়া উচিত—সে বিষয়ে নিজস্ব রায় দেয় না। তাই সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' বিষয়টি হলো 'সমাজবিজ্ঞান' (Sociology)।
ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯) ও শিল্প বিপ্লবোত্তর ইউরোপীয় সমাজের অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ ১৮৩৯ সালে সর্বপ্রথম 'Sociology' শব্দটির প্রবর্তন করেন এবং জ্ঞানের একটি আলাদা শাখা হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের জন্ম দেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ফরাসি বিপ্লবোত্তর বাস্তবতায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি 'ক' বিষয়টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। সমাজবিজ্ঞান হলো একটি আধুনিক ও গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান, যা মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ নিশ্চিত করে যে 'ক' বিষয়টি সমাজবিজ্ঞান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিকল্পিত ও উন্নত সমাজ গঠনে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত কার্যকরী ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করে।
সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের বাস্তব রূপই তুলে ধরে না, বরং একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে। নিচে এ ভূমিকা আলোচনা করা হলো:
১. সমাজ ও সামাজিক সমস্যার বাস্তব উপলব্ধি: যেকোনো সমাজ বিনির্মাণের পূর্বে সে সমাজের কাঠামো, প্রথা, সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা দরকার। সমাজবিজ্ঞান দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অপরাধ, নিরক্ষরতা ও লিঙ্গবৈষম্যের মতো সমস্যার গভীর কারণ উদ্ঘাটন করে।
২. টেকসই নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন: সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সমাজের চাহিদা নিরূপণ অপরিহার্য। সমাজবিজ্ঞানীদের সংগৃহীত তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে সরকার কার্যকর সামাজিক নীতি নির্ধারণ করতে পারে।
৩. সামাজিক পরিবর্তন ও সংঘাতের ব্যবস্থাপনা: দ্রুত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে সমাজে যে রূপান্তর ও সংঘাত সৃষ্টি হয়, সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান তা নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।
৪. মানবসম্পদের কার্যকর ব্যবহার: সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে সমাজবিজ্ঞান দিকনির্দেশনা দেয়।অতএব, একটি পরিকল্পিত, বৈষম্যহীন এবং টেকসই উন্নত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সমাজবিজ্ঞানের পাঠ, তাত্ত্বিক জ্ঞান ও প্রায়োগিক গবেষণা অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও