‍ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধিকার আন্দোলন ও ৭ মার্চের ভাষণ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব 'ক' রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। তার স্বৈরাচারী শাসন, দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যায়। আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হলে এ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে ও গণআন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে। অবশেষে জনাব 'ক' পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়।

  1. ক)

    কোন চুক্তির মাধ্যমে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান ঘটে?

    (1)
  2. খ)

    ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী কোন আন্দোলন সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত গণ আন্দোলনের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী— পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত তাসখন্দ চুক্তির মাধ্যমে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান ঘটে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। এই কর্মসূচিতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এজন্য ছয় দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি বা 'ম্যাগনা কার্টা' (মুক্তির সনদ) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক শাসন জারি করেন এবং দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচারী উপায়ে দেশ পরিচালনা করেন। উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর মতো এরশাদও দমননীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখেন। এর বিরুদ্ধে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ, ছাত্রসমাজ ও পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন শহীদ হলে আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অতএব, উদ্দীপকের চিত্রটি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ছিল।

    নব্বইয়ের গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ সামরিক ও আধা-সামরিক স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্জাগরণ সূচিত হয়। স্বৈরাচারী এরশাদের পদত্যাগের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি স্থাপন করে।

    সুতরাং, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন কেবল একজন স্বৈরাচারের পতনই ঘটায়নি, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন