ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • ব্যবসায়ের আইনগত দিক • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিল্পকারখানা অবস্থিত। প্রত্যেক দিন ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিল্পকারখানা হতে অপরিশোধিত বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদীতে নিক্ষেপ করছে। অপরিশোধিত বর্জ্য নদীর পানিকে নষ্ট করে ফেলছে। দূষণের ফলে নদীর মাছ ও জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার প্রতিকার চেয়েও প্রতিকার পায়নি। কিন্তু স্থানীয় মানুষ, মনে করে আইনের যথাযথ প্রয়োগেই বিষয়টির সমাধান সম্ভব।
- ক)(1)
পরিবেশ সংরক্ষণ কী?
- খ)(2)
পরিবেশ দূষণ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের দূষণের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আইনের যথাযথ প্রয়োগেই দূষণ রোধ সম্ভব- যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট পরিবেশের গুণগত মান বজায় রাখা এবং অবক্ষয় রোধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার সার্বিক প্রচেষ্টাকে পরিবেশ সংরক্ষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ড বা প্রাকৃতিক কারণে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন—মাটি, পানি ও বায়ুর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে জীবজগৎ ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তাকে পরিবেশ দূষণ বলে। শিল্পকারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং রাসায়নিক পদার্থের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পানি দূষণের কথা বলা হয়েছে।
শিল্প-কারখানার বিষাক্ত ও ক্ষতিকর তরল বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় নদীনালা বা জলাশয়ে নিক্ষেপ করলে পানির রাসায়নিক ও জৈবিক উপাদানের অবনতি ঘটে, যা পানি দূষণ নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন শিল্পকারখানা প্রতিদিন তাদের অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এর ফলে নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পানিতে বসবাসকারী মাছ ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক পানির এই গুণগত অবনতি ও ক্ষতিকর পরিবর্তন সরাসরি পানি দূষণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই আলোচ্য দূষণ রোধ সম্ভব—উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।
পরিবেশ সুরক্ষায় প্রণীত আইনের সফল বাস্তবায়ন ছাড়া শিল্পকারখানার স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। শিল্পকারখানার মালিকেরা সাধারণত অতিরিক্ত ব্যয়ের ভয়ে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন বা চালু রাখতে চান না। এক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (যেমন—বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫) এবং এর আওতাভুক্ত বিধিমালার কঠোর প্রয়োগই পারে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ বন্ধের জন্য স্থানীয় জনগণ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার প্রতিকার চেয়েও কোনো সুরাহা পায়নি। এর ফলে পরিবেশের ক্ষতি বেড়েই চলেছে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী দূষণকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা, ক্ষতিপূরণ আদায়, ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলককরণ এবং প্রয়োজনে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের মতো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে মালিকপক্ষ নিয়ম মানতে বাধ্য হবে। সুতরাং, তদারকি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই এই নদীর পরিবেশ দূষণ কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও