ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরের সোয়েটোতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। মাতৃভাষা জুলু এর পরিবর্তে শাসকশ্রেণির ভাষা আফ্রিকান্স ভাষায় স্কুলে শিক্ষাদান বাধ্যতামূলক করা হলে ছাত্ররা প্রতিবাদ সভা আহ্বান করে। তৎকালীন সরকার প্রতিবাদ সভায় যোগ দিতে যাওয়া ছাত্রদের মিছিলে গুলি করে। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়; যার অধিকাংশ ছিল শিশু-কিশোর।
- ক)(1)
প্রথম শহীদ মিনার কোথায় স্থাপিত হয়?
- খ)(2)
তমুদ্দুন মজলিস গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলন বর্তমানে জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত— পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম শহীদ মিনার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে (বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অবস্থিত) স্থাপিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তমুদ্দুন মজলিস গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সুরক্ষা দেওয়া এবং বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি প্রতিষ্ঠা করা। ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত এই ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংগঠনটি ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্বে পুস্তিকা প্রকাশ, সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগের মাধ্যমে মাতৃভাষার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েটোতে জুলু ভাষার শিক্ষার্থীদের ওপর আফ্রিকান্স ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ছাত্ররা মিছিল করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শতাধিক শিশু-কিশোরকে হত্যা করে। এটি ছিল মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম।
অনুরূপভাবে, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগণ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। উভয় ঘটনাই শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক মাতৃভাষার ওপর আঘাত এবং রক্তের বিনিময়ে অধিকার রক্ষার আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত আন্দোলন (১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন) বর্তমানে জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত— এই বক্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালিরা মাতৃভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়ে যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরে বাংলা ভাষা পাকিস্তানের সংবিধানে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত করে।
পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের এ ত্যাগ ও গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে কানাডাপ্রবাসী কিছু বাঙালির উদ্যোগে গঠিত সংগঠন এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রে প্রতি বছর অত্যন্ত মর্যাদার সাথে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে সকল মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন জাতীয় আত্মত্যাগের সীমানা ছাড়িয়ে আজ সমগ্র বিশ্বের সকল ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আন্তর্জাতিক প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও