সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
11.1.
সম্প্রতি পড়া একটি বই সম্পর্কে দুই বন্ধুর একটি সংলাপ রচনা করো।
11.2.
‘মোবাইল ফোনে বন্ধুত্বের পরিণাম’ বিষয়ক একটি ক্ষুদেগল্প রচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১. সম্প্রতি পড়া একটি বই সম্পর্কে দুই বন্ধুর একটি সংলাপ:
স্থান: বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের বারান্দা।
চরিত্র: তানভীর ও আবিদ।
তানভীর: শুভ অপরাহ্ন, আবিদ! কী করছ? হাতে ওটা কী বই?
আবিদ: শুভ অপরাহ্ন, তানভীর! সম্প্রতি শেষ করলাম একটি চমৎকার বই—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’।
তানভীর: বাহ্! বইটির নাম তো অনেক শুনেছি। কেমন লাগল পড়ে?
আবিদ: অসাধারণ! বইটি পড়ে আমি অভিভূত হয়েছি। এটি কেবল কোনো সাধারণ স্মৃতিকথা নয়, বরং তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
তানভীর: বইটিতে মূলত কোন সময়ের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে?
আবিদ: বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশোর, ভাষা আন্দোলনের দিনগুলো এবং ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এতে অত্যন্ত সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় বিবৃত হয়েছে।
তানভীর: কোন বিষয়টি তোমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে?
আবিদ: মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর আপসহীন মনোভাব, সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং জেল-জুলুমের মুখেও আদর্শে অটল থাকার সংকল্প আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
তানভীর: শুনেই তো পড়ার আগ্রহ অনেক বেড়ে গেল!
আবিদ: অবশ্যই পড়বে। দেশকে জানতে এবং নেতৃত্বগুণ শিখতে প্রতিটি তরুণেরই বইটি পড়া উচিত। আমি কালই তোমায় বইটি এনে দেব।
তানভীর: অনেক ধন্যবাদ, আবিদ।
আবিদ: তোমাকেও ধন্যবাদ, ভালো থেকো।
অথবা,
১১.২. ক্ষুদেগল্প:
মোবাইল ফোনে বন্ধুত্বের পরিণাম
রাফিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। নিঃসঙ্গ জীবনে তার একমাত্র সঙ্গী ছিল স্মার্টফোন। কয়েক মাস আগে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে আসা ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় হয় নিহালের সাথে। মিষ্টভাষী নিহাল অল্প দিনেই রাফিদকে নানা কথায় মুগ্ধ করে ফেলে। তাদের মধ্যে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কথোপকথন চলত। নিহাল নিজেকে একটি বহুজাতিক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত এবং রাফিদের বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে ওঠে।
একদিন হঠাৎ নিহাল অত্যন্ত ব্যাকুল গলায় ফোন করে জানাল, তার মা আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এখনই অস্ত্রোপচারের জন্য নগদ দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল না থাকায় সে রাফিদের কাছে অনুনয়-বিনয় করে টাকা ধার চায় এবং পরদিনই পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়। বিপদে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব মনে করে সরল বিশ্বাসে রাফিদ তার জমানো বেতনের এক লাখ বিশ হাজার টাকা নিহালের দেওয়া একটি মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠিয়ে দেয়।
টাকা পাঠানোর পর থেকেই নিহালের ফোন বন্ধ পেতে শুরু করে রাফিদ। দিন গড়িয়ে সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও আর কোনো যোগাযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে রাফিদ জানতে পারে, যে ঠিকানা ও কোম্পানির নাম নিহাল দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। এভাবে মোবাইল ফোনের ভার্চুয়াল পরিচয়ের ফাঁদে পড়ে এক নিমিষেই সর্বস্বান্ত হয়ে রাফিদ উপলব্ধি করল—অপরিচিত মানুষের মিষ্টি কথায় যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস স্থাপনের পরিণাম কত নির্মম হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও