ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রিফাত চৌধুরী মিয়াপুর গ্রামের মাতব্বর। তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম একদিন স্বামীর সাথে আলাপচারিতায় জানান, পাশের বাড়ির নাবিলের মায়ের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত কর্কশ ও চলাফেরা ভালো নয়। হঠাৎ একদিন অভিযোগ আসল রিফাত চৌধুরীর একমাত্র ছেলে শহিদ ও তার বন্ধু আবির প্রতিবেশীর বাগানে আম চাঁর করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। রিফাত চৌধুরীর উপর বিচারের ভার এসে পড়ে। তিনি শালিসে শহিদ ও আবিরকে একই শাস্তি দিলেন।
- ক)(1)
ইসলামে আত্মহত্যার বিধান কী?
- খ)(2)
'যে প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয়' ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাবেয়া বেগমের আলাপচারিতায় সামাজিক অনাচারের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জনাব রিফাত চৌধুরীর কর্মকান্ডের গুরুত্ব তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামে আত্মহত্যা করা সম্পূর্ণ হারাম বা কবিরা গুনাহ এবং এটি অত্যন্ত ঘৃণ্য ও মহাপাপ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত বাণীটি মহানবি (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি কোনো মানুষের সাথে ধোঁকা, প্রতারণা বা ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়, সে ইসলামের আদর্শ ও উম্মতে মুহাম্মাদির আদর্শচ্যুত হয়। ইসলামে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও পারস্পরিক বিশ্বস্ততার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লেনদেন, বেচাকেনা বা যে কোনো আচরণে প্রতারণা সমাজকে কলুষিত করে এবং পারস্পরিক আস্থা ধ্বংস করে। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে প্রতারণাকারীকে তাঁর দলের বহির্ভূত ঘোষণা করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাবেয়া বেগমের আলাপচারিতায় সামাজিক অনাচারের 'গিবত' (পরনিন্দা) বা অপবাদের দিকটি ফুটে উঠেছে।
কারো অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো দোষ বা বিষয় অন্যের কাছে আলোচনা করা যা শুনলে সে অসন্তুষ্ট হয়, তাকে গিবত বলা হয়। পবিত্র কুরআনে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাবেয়া বেগম তাঁর স্বামীর সাথে আলাপকালে পাশের বাড়ির নাবিলের মায়ের কর্কশ কণ্ঠস্বর ও চলাফেরা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। পেছনের এই অপ্রয়োজনীয় দোষচর্চা সুস্পষ্টভাবে গিবতের শামিল, যা সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জনাব রিফাত চৌধুরীর ন্যায়বিচারমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করো, তা তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে গেলেও। স্বজনপ্রীতি বর্জন করে অপরাধীকে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে শাস্তি প্রদান করাই হলো ইসলামী বিচার ব্যবস্থার মূল কথা।
উদ্দীপকে জনাব রিফাত চৌধুরী একজন মাতব্বর হিসেবে তাঁর একমাত্র ছেলে শহিদ ও তার বন্ধু আবিরের চুরির অপরাধে পক্ষপাতহীন বিচার করেছেন। তিনি ছেলের অপরাধ জেনেও তাকে ক্ষমা না করে বা কম শাস্তি না দিয়ে উভয়ের অপরাধ অনুযায়ী সমপরিমাণ শাস্তি নিশ্চিত করেছেন।
এ ধরনের নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন বিচারের মাধ্যমে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, মানুষের মাঝে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে এবং বিচারকের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা দৃঢ় হয়। সুতরাং, পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, জনাব রিফাত চৌধুরীর এরূপ সততা ও সুবিচার সমাজে অন্যায় রোধ করে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও