‍ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

প্রাচীনযুগ থেকে বাংলা তথা ভারতবর্ষের প্রাচুর্যের কথা ইউরোপীয়দের জানা ছিল। তাই তারা ভারতবর্ষের বাণিজ্যপথ আবিষ্কারের চেষ্টা করতে থাকে ও এক পর্যায়ে সফল হয়। বাণিজ্য করতে এসে নানা কৌশলে তারা এদেশের ক্ষমতা দখল করে নেয়। শুরুতে শুধু আর্থিক ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়ে অভিনব শাসন চালু করে। তাদের অত্যাচার ও শোষণের ফলে জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। ফলে এ অঞ্চলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

  1. ক)

    ভারতে আসার জলপথ কে আবিষ্কার করেন?

    (1)
  2. খ)

    ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনের কারণ কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের কোন শাসনব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত শাসনব্যবস্থার ফলে বাংলার জনজীবনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাস্কো দা গামা ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনের মূল কারণ ছিল বাণিজ্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক প্রাচুর্য অর্জন। প্রাচীনকাল থেকেই ইউরোপে ভারতের মসলা, রেশম বস্ত্র, সুতি বস্ত্র ও নীল ইত্যাদির ব্যাপক চাহিদা ছিল। তুর্কিরা কনস্টান্টিনোপল দখল করার পর স্থলপথে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপীয়রা বিকল্প জলপথ আবিষ্কার করে ভারতের অফুরন্ত ধন-সম্পদের লোভে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আগমন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন' ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ দিল্লির মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন। এর ফলে নবাবের হাতে থাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব বা নিজামত এবং ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে যায় রাজস্ব আদায় ও সামরিক কর্তৃত্ব বা দেওয়ানি। কোম্পানি দায়িত্বহীন ক্ষমতা ভোগ করে এবং নবাব ক্ষমতাহীন দায়িত্ব লাভ করেন। এই দ্বিমুখী শাসনব্যবস্থাকেই ইতিহাসে 'দ্বৈত শাসন' বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিদেশি শক্তি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এসে কূটকৌশলে ক্ষমতা দখল করে এবং শুরুতে শুধু আর্থিক ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়ে একটি অভিনব শাসনব্যবস্থা চালু করে। এটি লর্ড ক্লাইভের প্রবর্তিত দেওয়ানি ও নিজামতের দ্বৈত চরিত্রকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈত শাসনব্যবস্থার ফলে বাংলার জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল— উক্তিটি যথার্থ।

    দ্বৈত শাসনের ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা চরম অর্থলোলুপ হয়ে ওঠে। তারা রাজস্ব আদায়ের জন্য নিরীহ প্রজাদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও শোষণ শুরু করে। জমির উৎপাদনশীলতার দিকে নজর না দিয়ে অতিরিক্ত খাজনা নির্ধারণ করা হয় এবং বলপ্রয়োগ করে তা আদায় করা হতো। অপরদিকে নবাবের হাতে কোনো আর্থিক ক্ষমতা বা অর্থ না থাকায় তিনি প্রজাদের রক্ষা কিংবা সার্বিক কল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি।

    এই চরম শোষণ ও অন্যায্য রাজস্ব আদায়ের কারণে দেশের কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে। তার ওপর ১৭৬৯-১৭৭০ সালে পরপর কয়েক বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে খাদ্য উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়। কিন্তু কোম্পানি খাদ্য সংকটের মধ্যেও কর মওকুফ না করে শোষণ অব্যাহত রাখে এবং খাদ্যশস্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে বাংলা ১১৭৬ সালে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটে, যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের অনাহারে মৃত্যু ঘটে। সুতরাং, দ্বৈত শাসন বাংলার জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন