ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
অধ্যাপক আব্দুল হাই একাদশ শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা পাঠদানকালে বললেন, ইসলামের বিধান হলো যারা বিত্তবান তারা অবশ্যই বছরান্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ নির্ধারিত খাতে ব্যয় করবেন। এতে সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, পবিত্র হবে এবং সমাজে ধনী ও গরিবের মাঝে বৈষম্য দূর হবে। তিনি আরও উল্লেখ করলেন, তার' প্রতিবেশী 'মিস্টার ওয়াই' একজন ধনী মানুষ। তিনি কারও সাথে ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করেন না। পাশের বাড়ির অসহায় লোকদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন না।
- ক)(1)
আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার- অর্থ কী?
- খ)(2)
ইসলামে দাওয়াতের গুরুত্ব উল্লেখ কর।
- গ)(3)
মিস্টার ওয়াই-এর কর্মকান্ড ইসলামের কোন গুণের পরিপন্থি। ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে অধ্যাপক আব্দুল হাই-এর বক্তব্যে ইসলামের যে বিধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার' অর্থ সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামে দাওয়াত বা সত্যের পথে আহ্বানের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষকে মহান আল্লাহর পথে ডাকা নবি-রাসুলদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা মানুষকে তোমাদের প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো" (সুরা আন-নাহল: ১২৫)। দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হয় এবং পাপ ও অন্যায় বিদূরিত হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিস্টার ওয়াই-এর কর্মকাণ্ড ইসলামের অন্যতম মহৎ গুণ 'ইহসান' (দয়া/সদাচরণ), ইনসাফ (ন্যায়পরায়ণতা) এবং 'প্রতিবেশীর হক' আদায়ের পরিপন্থি।
ইসলাম ধনী ব্যক্তিদের আদেশ দিয়েছে তারা যেন অধীনস্থ, প্রতিবেশী এবং সমাজের অভাবী মানুষের সাথে সদাচরণ ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন" (সুরা আন-নাহল: ৯০)। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবেশীর প্রতি সহমর্মী হওয়ার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
উদ্দীপকে মিস্টার ওয়াই ধনী হওয়া সত্ত্বেও কারও সাথে ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করেন না এবং প্রতিবেশীর বিপদে সাহায্য করেন না। তাঁর এহেন আচরণ মানবিকতা ও ইসলামের পরোপকারিতা, সহমর্মিতা এবং প্রতিবেশীর অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অধ্যাপক আব্দুল হাই-এর বক্তব্যে ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'যাকাত'-এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নিচে এর সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হলো:
১. ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস: যাকাত ব্যবস্থার প্রধান সামাজিক উদ্দেশ্য হলো সম্পদকে কেবল ধনীদের মাঝে পুঞ্জীভূত না রেখে সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত শ্রেণির মধ্যে বণ্টন করা, যা অর্থনৈতিক ব্যবধান কমায়।
২. দারিদ্র্য বিমোচন: সমাজে যাকাতের অর্থ সঠিকভাবে বিতরণ করলে দরিদ্র ব্যক্তিরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়, ফলে ভিক্ষাবৃত্তি ও চরম দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা: অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকেই সমাজে চুরি, ছিনতাই ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়। যাকাত দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা দেয়, ফলে অপরাধ হ্রাস পায় এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
৪. পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব: ধনীদের দেওয়া যাকাতের মাধ্যমে দরিদ্রদের হৃদয়ে ধনী ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সৃষ্টি হয়, যা সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলে।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত যাকাত ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়ন সমাজে ভারসাম্য, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সার্বিক কল্যাণ বয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও