যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: উভচর প্রাণীর মতো মাছেরও মেরুদণ্ড, মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ড আছে। উভচর প্রাণীর ইন্দ্রিয়ানুভূতি আছে। সুতরাং, মাছেরও ইন্দ্রিয়ানুভূতি আছে। দৃষ্টান্ত-২: মানুষের মত রেডিও হাসে, কাঁদে ও গান গায়। মানুষের বুদ্ধি আছে। অতএব, রেডিওরও বুদ্ধি আছে।

  1. ক)

    সাদৃশ্যমূলক অনুমান কী?

    (1)
  2. খ)

    অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-১ এ কোন ধরনের আরোহ অনুমানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এ প্রতিফলিত অনুমানের তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি ভিন্ন বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য বা মিল লক্ষ্য করে তাদের মধ্যকার অন্য কোনো বিষয়েও মিল থাকবে বলে যে অনুমান করা হয়, তাকে সাদৃশ্যমূলক অনুমান বা সাদৃশ্যানুমান (Analogy) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবৈজ্ঞানিক আরোহ কোনো কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; এটি কেবল অবাধ ও অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এতে ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ খোঁজা হয় না, কেবল এ যাবৎ কোনো বিপরীত দৃষ্টান্ত না পাওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত সার্বিক করা হয়। যেহেতু ভবিষ্যতে একটিমাত্র বিপরীত দৃষ্টান্ত পেলেই সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যেতে পারে, তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, কেবল সম্ভাব্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ এ প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত 'সাধু সাদৃশ্যানুমান' নির্দেশিত হয়েছে।

    যে সাদৃশ্যমূলক অনুমানে দুটি বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়, তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।

    দৃষ্টান্ত-১ এ উভচর প্রাণী ও মাছের মধ্যে মেরুদণ্ড, মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডের উপস্থিতি অত্যন্ত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সাদৃশ্য। এই অত্যাবশ্যকীয় মিলের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যে উভচর প্রাণীর মতো মাছেরও ইন্দ্রিয়ানুভূতি রয়েছে। এখানে কোনো বাহ্যিক বা অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আশ্রয় নেওয়া হয়নি, তাই এটি সাধু সাদৃশ্যানুমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ 'সাধু সাদৃশ্যানুমান' এবং দৃষ্টান্ত-২ এ 'অসাধু সাদৃশ্যানুমান' প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. সাদৃশ্যের প্রকৃতি: দৃষ্টান্ত-১ এ মেরুদণ্ড, মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডের মতো মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক শারীরিক গঠনের সাদৃশ্য বিবেচনা করা হয়েছে। অপরদিকে দৃষ্টান্ত-২ এ মানুষ ও রেডিওর মধ্যে হাসা, কাঁদা বা গান গাওয়ার মতো কৃত্রিম, অগুরুত্বপূর্ণ ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের তুলনা করা হয়েছে।

    ২. সিদ্ধান্তের যাথার্থতা ও যৌক্তিক ভিত্তি: সাধু সাদৃশ্যানুমানে (দৃষ্টান্ত-১) গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এর সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত ও সম্ভাব্যতার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ। পক্ষান্তরে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানে (দৃষ্টান্ত-২) মানুষ ও জড়বস্তু রেডিওর মধ্যে জীবন ও বুদ্ধির মতো অপ্রাসঙ্গিক তুলনা করায় এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।

    ৩. মূলনীতির প্রয়োগ: দৃষ্টান্ত-১ এ প্রকৃতির অভ্যন্তরীণ কার্যকর মিলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ রূপক অর্থে ব্যবহৃত কথার ওপর নির্ভর করে মানুষ ও রেডিওর অভ্যন্তরীণ পার্থক্যকে (সচেতনতা বনাম যান্ত্রিকতা) উপেক্ষা করেছে।

    সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ মৌলিক সাদৃশ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি বিজ্ঞানসম্মত ও উৎকৃষ্ট সাধু সাদৃশ্যানুমান হলেও দৃষ্টান্ত-২ বাহ্যিক ও কৃত্রিম সাদৃশ্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিভ্রান্তিকর অসাধু সাদৃশ্যানুমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন