ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • অগ্নি বিমা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব জলিলুর রহমান নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসায়ী। অগ্নিজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় সত্তর লক্ষ টাকা মূল্যের পণ্যের মধ্যে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার পণ্যের বিমাচুক্তি করেন। আকস্মিক আগুন লেগে সম্পূর্ণ মালামাল ভস্মীভূত হয়। তিনি সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিমা কোম্পানির নিকট আবেদন করেছেন।

  1. ক)

    কোন বিমায় নৈতিক ঝুঁকির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?

    (1)
  2. খ)

    অগ্নিজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় অগ্নি বিমা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    জনাব জলিলুর রহমান কর্তৃক সম্পাদিত বিমাচুক্তি কোন ধরনের অগ্নি বিমা?

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব জলিলুর রহমান কি সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী? যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবন বিমায় নৈতিক ঝুঁকির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যবসায়ের সম্পদ ও সম্পত্তির যে অপ্রত্যাশিত ও মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তা পূরণ করে ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অগ্নি বিমা গুরুত্বপূর্ণ।

    অগ্নিকাণ্ড যেকোনো মুহূর্তে ব্যবসায়ের মূলধন ও পণ্য ভস্মীভূত করে প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। অগ্নি বিমাচুক্তি থাকলে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করে ব্যবসায়ীকে আগের আর্থিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে, যা উদ্যোক্তাদের দুশ্চিন্তামুক্ত রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসায় পরিচালনায় সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব জলিলুর রহমান কর্তৃক সম্পাদিত বিমাচুক্তিটি হলো 'স্বল্প বিমা' (Under Insurance) বা গড় শর্তযুক্ত অগ্নি বিমা।

    কোনো সম্পত্তির প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যের জন্য বিমা করা হলে তাকে স্বল্প বিমা বলা হয়। সাধারণত অগ্নি বিমাপত্রে 'গড় শর্ত' (Average Clause) যুক্ত থাকে, যার ফলে সম্পত্তির আংশিক বিমা করা হলে বিমাগ্রহীতা নিজেই অবিমাকৃত অংশের ঝুঁকি বহনকারী হিসেবে বিবেচিত হন।

    উদ্দীপকে জনাব জলিলুর রহমানের নির্মাণ সামগ্রীর মোট মূল্য ছিল ৭০ লক্ষ টাকা, কিন্তু তিনি ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য মাত্র ৫০ লক্ষ টাকার পণ্যের বিমা করেছিলেন। অর্থাৎ পণ্যের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম অঙ্কের বিমা করায় এটি একটি স্বল্প বিমা চুক্তি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব জলিলুর রহমান সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ (অর্থাৎ ৭০ লক্ষ টাকা) পাওয়ার অধিকারী নন; তিনি সর্বোচ্চ তাঁর বিমাকৃত অংক (৫০ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।

    ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী, অগ্নি বিমায় একজন বিমাগ্রহীতা কখনোই তাঁর বিমাকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন না। এছাড়া স্বল্প বিমার ক্ষেত্রে যদি বিমাপত্রে 'গড় শর্ত' প্রযোজ্য হয়, তবে ক্ষতির পরিমাণ আনুপাতিক হারে নির্ধারণ করা হয়:
    ক্ষতিপূরণ = (বিমাকৃত মূল্য / সম্পত্তির মোট মূল্য) × প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ।

    উদ্দীপকে জনাব জলিলুর রহমানের পণ্যের মোট মূল্য ৭০ লক্ষ টাকা এবং বিমাকৃত মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। আগুনে তাঁর সম্পূর্ণ মালামাল (৭০ লক্ষ টাকার পণ্য) ভস্মীভূত হয়েছে। যদি গড় শর্ত বিবেচনা করা হয়, তবে আনুপাতিক ক্ষতিপূরণ হবে:
    (৫০,০০,০০০ / ৭০,০০,০০০) × ৭০,০০,০০০ = ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা।
    আবার সাধারণ ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ীও, বিমাকারীর দায় সর্বোচ্চ বিমাকৃত অংক দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। যেহেতু বিমাকৃত অংক ছিল ৫০ লক্ষ টাকা, তাই বিমা কোম্পানি কোনো অবস্থাতেই ৫০ লক্ষ টাকার বেশি অর্থ প্রদান করবে না। অবিমাকৃত ২০ লক্ষ টাকার ঝুঁকি বিমাগ্রহীতাকে নিজেকেই বহন করতে হবে।

    অতএব, জনাব জলিলুর রহমান সম্পূর্ণ ক্ষতি বা ৭০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী নন, তিনি কেবল চুক্তি অনুযায়ী ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন