সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

শিক্ষানুরাগী আলী হায়দার একজন আলোকিত মানুষ। অবসর গ্রহণের পর তিনি গড়ে তোলেন 'আলোক বর্তিকা' নামক সেবা সংগঠন। যার মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজের জমানো টাকায় 'আলী হায়দার টেকনিক্যাল কলেজ' স্থাপন করেন। সেখান থেকে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে চাকরি করে এলাকাতে সচ্ছলতা নিয়ে এসেছে।

  1. ক)

    “তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?" উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    "বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না।" উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার বিষয়টি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানবকল্যাণের ধারণার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয়বস্তু প্রতিফলিত হয়েছে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?”— উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষকে উঁচু-নিচু, দাতা-গ্রহীতা বা ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে বিভক্ত করে কখনও প্রকৃত কল্যাণ করা যায় না— এ কথাটিই উক্তিটির মূল ভাব।

    প্রাবন্ধিক আবুল ফজলের মতে, সত্যিকারের মানবকল্যাণ সমগ্র মানবজাতিকে এক অবিভাজ্য সত্তা মনে করার ওপর নির্ভরশীল। যখন সাহায্যকারী নিজেকে উচ্চ এবং সাহায্যগ্রহীতাকে হীন বা নিচু মনে করে বিভক্তিকরণ ঘটায়, তখন গ্রহীতার আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়। এতে বাহ্যিক দান হতে পারে, কিন্তু তা মানুষের মানবিক চেতনার বিকাশ ঘটায় না। তাই বিভক্তিকরণের মানসিকতা মানবকল্যাণের পরিপন্থী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার বিষয়টি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী মানুষ তৈরির ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল প্রচলিত ক্ষণস্থায়ী দান-খয়রাতকে মানবকল্যাণ না বলে মানুষের শক্তি ও সম্ভাবনার বিকাশ সাধনকে প্রকৃত কল্যাণ বলেছেন। মানুষকে পরনির্ভরশীল না রেখে তাকে কর্মক্ষম, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলাই মানবকল্যাণের মূল উদ্দেশ্য।

    উদ্দীপকে আলী হায়দার বেকার যুবকদের করুণা বা ভিক্ষা না দিয়ে 'আলী হায়দার টেকনিক্যাল কলেজ' প্রতিষ্ঠা করে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করেছেন। কারিগরি প্রশিক্ষণ পেয়ে তারা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং এলাকায় সচ্ছলতা এনেছে। প্রবন্ধেও মানুষকে হাত পাতার অপমান থেকে রক্ষা করে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার এই পদক্ষেপ প্রবন্ধে উল্লেখিত মানবকল্যাণের আধুনিক ধারণার সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয়বস্তু প্রতিফলিত হয়নি; বরং একটি বিশেষ দিক প্রতিফলিত হয়েছে।

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক মানবকল্যাণকে অত্যন্ত ব্যাপক ও সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। কেবল ব্যক্তিক বা অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়; বরং রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, বিভেদমুক্ত মানসিকতা গড়ে তোলা, এবং মানুষের আত্মিক ও সার্বিক মুক্তি সাধনই মানবকল্যাণ। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব বলেও প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে আলী হায়দারের উদ্যোগটি কেবল বেকার যুবক-যুবতীদের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটি মানবকল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানমূলক দিক হলেও এতে মানবকল্যাণের গভীর দার্শনিক ও নৈতিক দিকসমূহ— যেমন দান-খয়রাতের অবমাননাকর রূপ পরিহার, সমাজের শ্রেণিবিভাজন বিলোপ এবং সার্বিক মানবমুক্তির গভীর চেতনা পুরোপুরি উঠে আসেনি।

    অতএব, উদ্দীপকটি প্রবন্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধারণ করলেও সমগ্র দর্শন ও সামগ্রিক বিষয়বস্তুর পূর্ণাঙ্গ রূপ এতে প্রতিফলিত হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন