ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সুলতান সুলাইমান এর সিংহাসনারোহণ বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। তাকে মহামতি সুলাইমানও বলা হয়। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি প্রথমেই রাজ্য জয়ে মনোনিবেশ করেন। কতিপয় যোগ্য সেনাপতির সাহায্যের কারণেই তাঁর পক্ষে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার নাম অগ্রগণ্য। তিনি এশিয়ার পারস্যসহ ইউরোপের হাঙ্গেরি, বেলগ্রেড, ভিয়েনা ও রোডস অধিকার করেন। এভাবে তিন মহাদেশব্যাপী তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন。

  1. ক)

    উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    'কুব্বাতুস সাখরা' কেন নির্মাণ করা হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সুলতান সোলায়মানের কর্মকাণ্ডের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার চেয়ে উমাইয়া সেনাপতিগণ অধিক কর্মতৎপর ছিলেন—বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) বা প্রথম মুয়াবিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খলিফা আব্দুল মালিকের নির্দেশে ৬৯১ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমে 'কুব্বাতুস সাখরা' (Dome of the Rock) নির্মিত হয়। এটি নির্মাণের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মহানবী (সা.)-এর পবিত্র মিরাজ গমনের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র পাথরটিকে সুরক্ষিত রাখা। এছাড়া তৎকালীন সময়ে মক্কায় আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের বিদ্রোহ ও কর্তৃত্ব থাকায় সিরিয়াবাসীদের হজের বিকল্প হিসেবে জেরুজালেমে আকর্ষণ করা এবং খ্রিস্টানদের স্থাপত্য শিল্পের চেয়ে অধিক দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্য গড়ে তোলাও এর উদ্দেশ্য ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সুলতান সুলাইমানের সাম্রাজ্য বিস্তার ও যোগ্য সেনাপতিদের ব্যবহারের কর্মকাণ্ডের সাথে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    সুলতান সুলাইমান সিংহাসনে আরোহণ করে যোগ্য সেনাপতিদের সাহায্যে এশিয়া ও ইউরোপে রাজ্য বিস্তার করে তিন মহাদেশব্যাপী সুবিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। একইভাবে, উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনামল ছিল উমাইয়া খিলাফতের সর্বাধিক সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের স্বর্ণযুগ। আল-ওয়ালিদ নিজেও নিজে রণক্ষেত্রে না গিয়ে তাঁর প্রতিভাবান ও অকুতোভয় সেনাপতিদের যথাযথ কাজে লাগিয়েছিলেন। তাঁর সেনাপতিদের নেতৃত্বে তিন মহাদেশ জুড়ে—পূর্বে ভারতের সিন্ধু ও মধ্য এশিয়া থেকে পশ্চিমে ইউরোপের স্পেন পর্যন্ত উমাইয়া খিলাফতের বিস্তার ঘটে। সুতরাং, সাম্রাজ্য বিস্তার ও যোগ্য সেনাপতিত্বের সদ্ব্যবহারের দিক থেকে সুলতান সুলাইমানের সাথে খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের মিল বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত অটোমান সেনাপতি ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার তুলনায় উমাইয়া যুগের সেনাপতিগণ ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও ইসলামি সভ্যতার দিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অধিক কর্মতৎপর ও প্রভাবশালী ছিলেন—উক্তিটি যথার্থ।

    সুলতান সুলাইমানের সেনাপতি ইব্রাহিম পাশা এবং নৌসেনাপতি খায়রুদ্দিন বারবারোসা ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অটোমান আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তবে উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের শাসনামলে নিয়োজিত সেনাপতিদের কর্মতৎপরতা ছিল বৈপ্লবিক ও সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, মুহাম্মদ বিন কাসিম মাত্র সতেরো বছর বয়সে ভারত উপমহাদেশের সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করে ভারতীয় অঞ্চলে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। দ্বিতীয়ত, কুতাইবা বিন মুসলিম মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরকন্দ, খোয়ারিজমসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করে সেখানে ইসলামের স্থায়ী প্রচার নিশ্চিত করেন। তৃতীয়ত, মুসা বিন নুসাইর সমগ্র উত্তর আফ্রিকার অবাধ্য বার্বারদের পদানত করে ইসলামভুক্ত করেন। চতুর্থত, তারিক বিন জিয়াদ মাত্র সামান্য সৈন্য নিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে স্পেনের প্রতাপশালী ভিসিগথ রাজা রডারিককে পরাজিত করে ইউরোপে মুসলিম বিজয়ের সূচনা করেন।

    উমাইয়া সেনাপতিদের এই ক্ষিপ্রতা, রণকৌশল এবং সম্পূর্ণ নতুন অঞ্চলসমূহে স্থায়ী সভ্যতা ও ইসলাম প্রচারের সাফল্য বিবেচনা করলে বলা যায়, উদ্দীপকের অটোমান সেনাপতিদের চেয়ে উমাইয়া সেনাপতিদের কর্মতৎপরতা ও প্রভাব ছিল অধিকতর বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন