সাহিত্য পাঠ • তাহারেই পড়ে মনে • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ভ্রমণবিলাসী ও প্রকৃতিপ্রেমিক তামিম সাহেব সুযোগ পেলেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যেতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেয়ে মাহজাবীন বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। একমাত্র মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। মেয়েকে হারিয়ে তামিম সাহেব আজ নির্বাক, নিথর। প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য তার মনকে এখন আর আকর্ষণ করে না। সবকিছুই যেন আজ বিষাদময়।

  1. ক)

    'বরিয়া' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?"-কবির এ জিজ্ঞাসার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তামিম সাহেবের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাব কতটুকু প্রকাশ পেয়েছে? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বরিয়া' শব্দের অর্থ বরণ করে বা সাদরে গ্রহণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির মন প্রিয়জন হারানোর বিষাদে আচ্ছন্ন থাকায় তিনি বসন্তের রূপ-সৌন্দর্য লক্ষ্য করতে পারেননি বলেই প্রশ্নোক্ত জিজ্ঞাসাটি করেছেন।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল তাঁর প্রয়াত স্বামীর শোক ভুলতে পারেননি। চারদিকে বসন্ত ঋতুর সমারোহ থাকলেও কবির উদাসীন হৃদয় তা অনুভব করতে ব্যর্থ হয়। বসন্তের প্রধান লক্ষণ যেমন দক্ষিণা বাতাসের আগমন ঘটেছে কি না তা জানার জন্য কবি দ্বিধান্বিত চিত্তে ভক্ত কবিরূপী পাঠকদের কাছে জানতে চান—'দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?'

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তামিম সাহেবের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল চরিত্র স্বয়ং কবির (কবি সুফিয়া কামালের) গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি তাঁর স্বামী তথা সাহিত্য-সাধনার প্রধান প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে তীব্র শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। চারদিকে ঋতুরাজ বসন্তের নান্দনিক রূপ ও আনন্দের জোয়ার থাকা সত্ত্বেও কবির অন্তর জুড়ে ছিল রিক্ততা ও হাহাকার। প্রকৃতির অপরূপ রূপ-সৌন্দর্য কবিকে কোনোভাবেই আনন্দিত বা উজ্জীবিত করতে পারেনি।

    উদ্দীপকের তামিম সাহেবও একজন প্রকৃতিপ্রেমিক মানুষ ছিলেন, যিনি সুযোগ পেলেই প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতেন। কিন্তু একমাত্র কন্যা মাহজাবীনের সড়ক দুর্ঘটনায় আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর জীবনও শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। কন্যার বিয়োগব্যথায় তিনি আজ নির্বাক এবং প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য তাঁর মনকে আর স্পর্শ করে না। প্রিয়জন হারানোর এই তীব্র শোক এবং তার ফলে প্রকৃতির প্রতি গভীর নির্লিপ্ততা ও বিষাদময়তার দিক দিয়ে তামিম সাহেবের মানসিক অবস্থা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার অন্যতম প্রধান দিক তথা শোকের কারণে প্রকৃতির প্রতি উদাসীনতা ফুটে উঠলেও কবিতার সম্পূর্ণ বহুমাত্রিক মূলভাব প্রকাশিত হয়নি।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল সুর শুধু প্রিয়জন হারানোর শোক নয়, বরং প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য ও মানব মনের অনুভূতির পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের রূপায়ণ। একদিকে প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের অপরূপ ফুল, গন্ধ ও সমারোহ; অন্যদিকে কবির অন্তরে প্রিয়জন হারানোর গভীর ক্ষত ও হাহাকার। প্রকৃতির আনন্দধারা এবং কবির ব্যক্তিজীবনের রিক্ততার এই বৈপরীত্য এবং ভক্তের সঙ্গে কবির সংলাপধর্মী কথোপকথনের মাধ্যমে কবিমন ও কাব্যোৎসাহের গভীর টানাপোড়েন কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কন্যাশোকে কাতর তামিম সাহেবের কাছে প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অর্থহীন হয়ে পড়েছে এবং তাঁর জীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছে। এটি কবিতার কবির বিষাদ ও প্রকৃতি-বিমুখতার অংশের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। কিন্তু কবিতায় বসন্তের আগমন, প্রকৃতির বিপুল উল্লাস, কবির প্রতি ভক্তের ব্যাকুল অনুযোগ ও কবিকে দিয়ে গান লিখিয়ে নেওয়ার তাগিদ—এই সামগ্রিক দ্বন্দ্ব ও সংলাপময় আবহ উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

    সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা ও প্রকৃতির প্রতি অনীহার দিকটি যথাযথভাবে ফুটে উঠলেও প্রকৃতির সঙ্গে মনের দ্বন্দ্ব এবং ভক্ত-কবির মিথস্ক্রিয়াসহ কবিতার সমগ্র মূলভাব উদ্দীপকটিতে আংশিকভাবেই প্রকাশ পেয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন