ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
হুমায়ন এক ওয়াজ মাহফিলে একজন মনীষীর সত্যবাদিতা সম্পর্কে অবহিত হন। বাগদাদে লেখাপড়া শিখতে যাওয়া উক্ত মনীষীর সত্যবাদিতায় মুগ্ধ হয়ে একদল ডাকাত তাদের ডাকাতি ছেড়ে দেয়। হুমায়ন উক্ত মনীষীর জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শরিয়তের বিধি-বিধান পালন শুরু করেন। একদিন তার প্রতিবেশী তাকে বললেন, শরিয়তের কিছু বিধি-বিধান পালন করলে হবে না। আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরো কিছু করা প্রয়োজন।
- ক)(1)
নকশবন্দিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
“ইসলামে বৈরাগ্যবাদের স্থান নেই”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
হুমায়নের ওয়াজ মাহফিলে কোন মনীষীর কথা শুনেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
হুমায়নের প্রতিবেশীর কথায় ইসলামের যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নকশবন্দিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হলেন খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বুখারী (রহ.)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামে সংসার ত্যাগ করে বনে-জঙ্গলে বা নির্জনতায় বাস করে কৃচ্ছ্রসাধন করার মতো বৈরাগ্যবাদের কোনো স্থান নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "ইসলামে কোনো বৈরাগ্যবাদ নেই" (লা রাহবানিয়্যাতা ফিল ইসলাম)। ইসলাম মানুষকে স্বাভাবিক পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দেয়। বৈরাগ্য গ্রহণ করে সংসার ত্যাগ করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হুমায়ুন ওয়াজ মাহফিলে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও সুফি সাধক বড়পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর কথা শুনেছেন।
বাল্যকালে হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহ.) যখন উচ্চশিক্ষার জন্য কাফেলার সাথে বাগদাদ যাচ্ছিলেন, তখন পথিমধ্যে ডাকাত দলের কবলে পড়েন। মায়ের উপদেশ স্মরণে রেখে চরম বিপদের মুখেও তিনি সত্য কথা বলে নিজের কাছে থাকা স্বর্ণমুদ্রার সন্ধান ডাকাতদের জানিয়ে দেন। তাঁর এই অসাধারণ সত্যবাদিতা দেখে ডাকাতদের মন গলে যায় এবং তারা তওবা করে ডাকাতি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে এই ঐতিহাসিক ঘটনার পূর্ণ মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হুমায়ুনের প্রতিবেশীর কথায় ইসলামের 'তাসাউফ' বা 'আত্মশুদ্ধি'র (ইহসান) বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যা শরিয়ত পালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যৌক্তিক ও অপরিহার্য।
বাহ্যিক বিধি-বিধান বা শরিয়তের আদেশ-নিষেধ পালন করা যেমন মুসলিম জীবনের আবশ্যিক অঙ্গ, তেমনি অন্তরের পরিশুদ্ধি বা মনের সততা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম কেবল আচার-সর্বস্ব ধর্ম নয়, বরং ইবাদতের প্রাণ হলো আন্তরিকতা, আল্লাহর ভয় এবং তাকওয়া। অহংকার, রিয়া (লোক দেখানো ভাব), হিংসা ইত্যাদি দূর করে কলবকে পবিত্র না করলে বাহ্যিক ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহসানের সংজ্ঞায় বলেছেন— "এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাঁকে না দেখ, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন।" সুতরাং, প্রতিবেশীর কথা অনুযায়ী শুধু বাহ্যিক কাজ করাই যথেষ্ট নয়, বরং আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন ও আত্মিক শুদ্ধি অর্জন করাও একান্ত প্রয়োজন, যা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও