ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মুশফিক প্রতিদিন একটি গ্রন্থ পড়েন এবং অন্যদেরকে শিক্ষা দেন। তিনি বলেন, এই গ্রন্থের প্রতিটি অক্ষর পড়ার জন্য দশটি নেকী পাওয়া যাবে। অন্যদিকে তার প্রতিবেশী হাসান আল্লাহকে না দেখে তাঁর উপর বিশ্বাস করে মসজিদে গিয়ে প্রার্থনা করেন এবং নিজ উপার্জিত অর্থ দরিদ্র, অসহায় ও সামাজিক কল্যাণে ব্যয় করেন। তিনি মনে করেন, প্রতিটি মানুষকে মৃত্যুর পর পার্থিব জীবনের হিসাব দিতে হবে।
- ক)(1)
'আল-গাইব' (اَلْغَيْبُ) অর্থ কী?
- খ)(2)
দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
মুশফিক সাহেবের বক্তব্যে কোন গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
হাসানের কর্মকাণ্ড কি সবক্ষেত্রে সাফল্যের বৈশিষ্ট্যযুক্ত? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-গাইব' (اَلْغَيْبُ) শব্দের অর্থ হলো অদৃশ্য, অদেখা বা ইন্দ্রিয়াতীত বিষয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।' এর অর্থ হলো ইসলাম ধর্মে কাউকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার বা বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সত্য ও মিথ্যা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, ফলে মানুষ স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে সত্য পথ গ্রহণ করবে। ধর্ম বিশ্বাস মানুষের আন্তরিক উপলব্ধির বিষয়, যা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অর্জন সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুশফিক সাহেবের বক্তব্যে আল-কুরআনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) থেকে একটি হরফ পাঠ করবে, সে একটি নেকী লাভ করবে; আর একটি নেকীর প্রতিদান দশ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় (তিরমিজি)।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মুশফিক প্রতিদিন একটি বিশেষ গ্রন্থ পড়েন এবং অন্যদের শেখান। তিনি বলেন যে, এই গ্রন্থের প্রতিটি অক্ষর পাঠের বিনিময়ে দশটি নেকী অর্জিত হয়। হাদিসের ঘোষণার সাথে মুশফিক সাহেবের বক্তব্যের হুবহু মিল রয়েছে। সুতরাং তাঁর বক্তব্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব পবিত্র আল-কুরআনের প্রতিই স্পষ্ট ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, হাসানের কর্মকাণ্ড উভয় জাহানে সাফল্যের বৈশিষ্ট্যযুক্ত।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার শুরুতে মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্যে বলা হয়েছে—যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহপ্রদত্ত রিজিক থেকে ব্যয় করে, তারাই পরকালে সফলকাম হবে। তাছাড়া আখিরাত বা পরকালে জবাবদিহিতায় বিশ্বাস রাখা মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে।
উদ্দীপকে হাসান আল্লাহকে না দেখে তাঁর প্রতি ঈমান আনেন (আল-গাইবে বিশ্বাস), সালাত আদায় করেন (মসজিদে গিয়ে প্রার্থনা), উপার্জিত অর্থ গরিব-অসহায়দের জন্য ব্যয় করেন (ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ) এবং পরকালের জবাবদিহিতায় দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এই গুণাবলি পরিপূর্ণ মুমিনের পরিচয় বহন করে। এর ফলে ব্যক্তি ইহকালে মানসিক শান্তি ও সমাজে সম্মান লাভ করে এবং পরকালে জান্নাত ও চিরন্তন মুক্তি অর্জন করে। অতএব, হাসান সাহেবের কর্মকাণ্ড নিশ্চিতভাবেই ইহকালীন ও পরকালীন সার্বিক সাফল্যের পরিচায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও