হিন্দু ধর্ম • স্রষ্টা, সৃষ্টি ও তাঁর উপাসনা • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

রতন তার বাবার সাথে বেড়াতে গিয়ে মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়। তাই রতন পিতার কাছে জানতে চায়- দিনে সূর্যের আলো, রাতে চাঁদের কিরণ, তারার মেলা, সাগরের জল, মাটি বাতাস এসব কার সৃষ্টি? পিতা বললেন, তিনি একজন মহান সত্ত্বা। তিনি সবার চেয়ে আদি পুরুষ। জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে তিনি পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান।

  1. ক)

    হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    পরমাত্মা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    প্রকৃতিতে ঈশ্বর সম্পর্কে রতনের ধারণা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা" উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ।

  2. খ)

    পরমাত্মা হলেন ঈশ্বরের সেই রূপ, যিনি জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন এবং যাঁর থেকে সমস্ত জীবজগৎ ও জড়জগতের সৃষ্টি। যোগীদের কাছে ঈশ্বর পরমাত্মা নামে পরিচিত।

    পরমাত্মা যখন জীবদেহে থাকেন, তখন তিনি জীবাত্মা। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশ, তাই পরমাত্মার ন্যায় এটিও জন্ম-মৃত্যুহীন ও শাশ্বত।

  3. গ)

    রতনের ধারণায় ঈশ্বর প্রকৃতির সবকিছুর স্রষ্টা এবং সবকিছুর মধ্যে বিরাজমান।

    প্রকৃতিতে ঈশ্বরের ধারণা: সুনীল আকাশ, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, সমুদ্র, নদী, পাহাড়, গাছপালা, আলো-বাতাস ও জীবজন্তু মিলে এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। এ সবকিছুর মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্তা। প্রকৃতির সৌন্দর্য তাঁরই সৌন্দর্য। কবি রজনীকান্ত সেনের ভাষায়, 'আছ অনল-অনিলে চির নভোনীলে, ভূধর সলিল গহনে, আছ বিটপী লতায় জলদের গায়, শশী তারকায় তপনে'। অর্থাৎ ঈশ্বর অগ্নি, বায়ু, আকাশ, পর্বত, জল, গাছ-লতা, চন্দ্র, সূর্য ও তারকার মধ্যে অবস্থান করেন।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: রতন বেড়াতে গিয়ে সূর্যের আলো, চাঁদের কিরণ, তারার মেলা, সাগরের জল, মাটি ও বাতাস দেখে মুগ্ধ হয় এবং ভাবে, এসব কার সৃষ্টি। পিতা তাকে বলেন, এ সবের স্রষ্টা একজন মহান সত্তা, যিনি সবার আদি। এতে বোঝা যায়, রতন প্রকৃতির সৌন্দর্যের মধ্যে একজন স্রষ্টাকে অনুভব করছে, যা পাঠ্যবইয়ের 'সকল সৃষ্টির মূলে এক ঈশ্বর' ধারণার সাথে মেলে।

    অতএব, রতনের ধারণা অনুযায়ী প্রকৃতির সব সৃষ্টির মূলে এক মহান ঈশ্বর রয়েছেন।

  4. ঘ)

    'জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা' উক্তিটির অর্থ হলো, ঈশ্বর মূলত এক ও অদ্বিতীয় হলেও সাধকের সাধনপথ ও উপলব্ধি অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন নামে পরিচিত হন। উদ্দীপকে রতনের পিতা এ কথাই বলেছেন।

    হিন্দুধর্মের মৌলিক বিশ্বাস একেশ্বরবাদ। বেদে বলা হয়েছে, 'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি', অর্থাৎ সদ্বস্তু এক, জ্ঞানীরা তাঁকে বহুভাবে বর্ণনা করেন। ঈশ্বরকে ব্রহ্ম, পরমেশ্বর, পরমাত্মা, আত্মা, ঈশ্বর ও ভগবান নামে অভিহিত করা হয়।

    ১. জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম: জ্ঞানী জ্ঞানযোগের পথে জগৎ ও জীবের প্রকৃতি জেনে সৃষ্টির ঊর্ধ্বে স্রষ্টাকে অনুভব করেন। উপনিষদে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টাকে ব্রহ্ম বলা হয়েছে, যিনি নিরাকার, সর্বব্যাপী। জ্ঞানী উপলব্ধি করেন, সব প্রাণীর মধ্যে একই চেতনা অবস্থান করে।

    ২. যোগীর কাছে পরমাত্মা: যোগী ধ্যান ও যোগসাধনার মাধ্যমে উপলব্ধি করেন, ঈশ্বর জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। পরমাত্মা থেকেই জীবের সৃষ্টি, আর জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশ। তাই যোগীর কাছে ঈশ্বর পরমাত্মা।

    ৩. ভক্তের কাছে ভগবান: ভক্ত ভালোবাসা ও ভক্তি দিয়ে সগুণ, সাকার ঈশ্বরকে আরাধনা করেন। ঈশ্বর ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য এ ছয় গুণে গুণান্বিত, তাই ভক্তের কাছে তিনি ভগবান।

    ৪. এক ঈশ্বরের তিন প্রকাশ: উদ্দীপকের মহান সত্তা, যিনি সবার আদি পুরুষ, তিনিই ব্রহ্ম, পরমাত্মা ও ভগবান। নামে পার্থক্য থাকলেও তিনি এক।

    সুতরাং, জ্ঞান, যোগ ও ভক্তি এ তিন পথের সাধক একই ঈশ্বরকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে উপলব্ধি করেন। এ উক্তিতে হিন্দুধর্মের একেশ্বরবাদ ও সমন্বয়ের আদর্শই প্রকাশ পেয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন