ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • প্রেষণা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

কালীগঞ্জ সুগার মিলস এর কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মীদের ঝুঁকির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করা হয়। দুর্ঘটনা যাতে একেবারেই না ঘটে সেজন্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ সব সময় তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর রাখেন। মিলের এমডি মিঃ আপন শ্রমিক-কর্মীর কল্যাণের কথা চিন্তা করে মুনাফার ১০% তাদের প্রদানের ঘোষণা দেন। এতে শ্রমিক-কর্মীদের মধ্যে খুশির ভাব দেখা যায়। কাজকে তারা নিজের কাজ হিসেবে ভাবছে।

  1. ক)

    জৈবিক চাহিদা কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রেষণাকে একটা অবিরাম প্রক্রিয়া গণ্য করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঝুঁকি হ্রাস কোন ধরনের প্রেষণা দান পদ্ধতির মধ্যে পড়ে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "মুনাফায় অংশগ্রহণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে"— উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক ও শারীরিক প্রয়োজন মেটানোর চাহিদাকে জৈবিক চাহিদা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রেষণা হলো কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার একটি চলমান বা অবিরাম প্রক্রিয়া।

    মানুষের অভাব ও চাহিদা পরিবর্তনশীল এবং একটি অভাব পূরণ হলে নতুন আরেকটি অভাবের সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মীদের সবসময় প্রেষিত রাখতে হয়। একবার প্রেষণা দিলেই কর্মীদের সন্তুষ্টি স্থায়ী হয় না; পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিনিয়ত তাদের উৎসাহিত রাখতে হয় বলে প্রেষণাকে একটি অবিরাম প্রক্রিয়া গণ্য করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঝুঁকি হ্রাস প্রেষণাদানের 'অার্থিক প্রেষণা' (বা নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ সংক্রান্ত প্রেষণা) পদ্ধতির মধ্যে পড়ে।

    যেসব সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আর্থিক লেনদেন জড়িত নয়, কিন্তু কর্মীদের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করে তাদের উৎসাহিত করে, তাকে অনার্থিক প্রেষণা বলে। কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ও জীবনের নিরাপত্তা বিধান কর্মীদের উদ্বেগ দূর করে কাজে মনোযোগী করে তোলে।

    কালীগঞ্জ সুগার মিলসে শ্রমিক-কর্মীদের কাজের ঝুঁকি কমানো এবং দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি মূলত কর্মীদের শারীরিক ও পেশাগত নিরাপত্তা প্রদান করে কর্মপরিবেশকে ঝুঁকিমুক্ত করার অনার্থিক প্রেষণামূলক পদক্ষেপ। সুতরাং, উদ্দীপকের ঝুঁকি হ্রাস হলো একটি অনার্থিক প্রেষণাদান পদ্ধতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মুনাফায় অংশগ্রহণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে"— উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    প্রতিষ্ঠানের অর্জিত মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করার ব্যবস্থাকে মুনাফায় অংশগ্রহণ বলে। এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর আর্থিক প্রেষণা। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি একাত্মতা ও মালিকানাসুলভ মনোভাব গড়ে ওঠে, যা তাদের সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মিলের এমডি মিঃ আপন শ্রমিকদের কল্যাণে অর্জিত মুনাফার ১০% তাদের প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এই আর্থিক স্বীকৃতির ফলে শ্রমিক-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা কাজকে নিজেদের কাজ মনে করছে। যখন কর্মীরা প্রতিষ্ঠানকে নিজের ভাববে, তখন তারা অপচয় কমাবে, উৎপাদন বাড়াতে সচেষ্ট হবে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করবে।

    অতএব, মুনাফায় অংশগ্রহণের এই সুযোগ কর্মীদের কাজের প্রতি আন্তরিক ও মোটিভেটেড করায় কারখানার সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং তা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অত্যন্ত কার্যকর ও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন