সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সহপাঠ প্রশ্ন

ব্যবসায়ী রফিক সাহেব তার বিশ্বস্ত কর্মচারী করিমকে তার ব্যবসার একটি অংশের দায়িত্ব দেন। কিন্তু কিছুকাল পরেই করিম ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেই দোকানের মালিকানা দাবি করতে শুরু করে। এই জালিয়াতিতে তাকে মদদ দেয় রফিক সাহেবের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা; যাদের লক্ষ্য ছিল রফিক সাহেবের ব্যবসা দখল করা।

  1. ক)

    ওয়ালী খান কীসের জন্য ইংরেজদের পক্ষে যুদ্ধ করেছে?

    (1)
  2. খ)

    “আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই।” — তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের করিমের আচরণ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কার সাথে অধিক সম্পর্কযুক্ত? কেন?

    (3)
  4. ঘ)

    “স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার মানদণ্ডে উদ্দীপক এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূলভাব প্রায় অনুরূপ।” — মন্তব্যের যাথার্থ্য বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ওয়ালী খান অর্থের লোভে ইংরেজদের পক্ষে যুদ্ধ করেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই।” — নবাব সিরাজউদ্দৌলার এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ ও চরম আত্মত্যাগের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে।

    পলাশীর ময়দানে ইংরেজ সৈন্য এবং নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের একত্র সমাবেশ ঘটেছিল। নবাব জানতেন, এই যুদ্ধ শুধু সাধারণ কোনো সামরিক সংঘাত নয়; এটি বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতার অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই। এ যুদ্ধে জয়লাভ না করলে দেশের স্বাধীনতা চিরতরে ভূলুণ্ঠিত হবে। তাই নবাব সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও এই যুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করতে গিয়ে উক্ত কথাটি বলেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের করিমের আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান বিশ্বাসঘাতক চরিত্র মীরজাফরের সাথে অধিক সম্পর্কযুক্ত।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীরজাফর নবাবের প্রধান সেনাপতি বা সিপাহসালার হিসেবে নবাবের অত্যন্ত বিশ্বস্ত পদাধিকারী ছিলেন। নবাব আলীবর্দী খাঁ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই তাঁর ওপর অগাধ ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু মীরজাফর সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করে নবাবকে মসনদচ্যুত করে নিজে মসনদে বসার জন্য শত্রুপক্ষ ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশ্বস্ত কর্মচারী করিম রফিক সাহেবের দেওয়া দায়িত্বের অপব্যবহার করে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দোকানের মালিকানা দাবি করে। মনিবের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করে শত্রুর মদদে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করার এই অপচেষ্টা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীরজাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই করিমের আচরণ মীরজাফরের সাথে অধিক সম্পর্কযুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার মানদণ্ডে উদ্দীপক এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূলভাব প্রায় অনুরূপ।” — মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও যৌক্তিক।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ব্যক্তিগত লোভ, স্বার্থপরতা এবং অন্ধ উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ ও উমিচাঁদের মতো ব্যক্তিবর্গ স্বাধীন বাংলার নবাবের চরম ক্ষতিসাধন করতে ইংরেজদের সঙ্গে আঁতাত করে। তারা নিজেদের আর্থিক লাভ ও ক্ষমতার লোভে নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে পুরো জাতিকে পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেয়।

    উদ্দীপকেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। রফিক সাহেবের ব্যবসায়িক উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল এবং বিশ্বাসঘাতক কর্মচারী করিম একজোট হয়। করিম নিজের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে মনিবের বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান জালিয়াতি করে এবং এই ষড়যন্ত্রে সোহেল তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।

    উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট যে, নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অন্যের ক্ষতিসাধন, বিশ্বাসভঙ্গ এবং স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুর সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়াকে মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং, নাটকের মূল ট্র্যাজেডি যে স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, উদ্দীপকেও ক্ষুদ্র পরিসরে সেই একই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন