ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি | ক | কর্দম ও বেলে পাথরের মিশ্রণে গঠিত ।
খ | মাটির রঙ ধূসর ও লালচে । বৃহত্তম সোপান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ।
- ক)(1)
কনরাড বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?
- খ)(2)
ব-আকৃতির সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' অঞ্চলের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' অঞ্চলের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূত্বকের মহাদেশীয় ভূত্বক (শিয়াল বা SiAl) ও মহাসাগরীয় ভূত্বক (সীমা বা SiMa)-এর মধ্যবর্তী বিভাজন বা সীমানারেখাকে কনরাড বিযুক্তি রেখা (Conrad Discontinuity) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নদী যখন মোহনার নিকটবর্তী হয়, তখন তার ঢাল কমে যাওয়ায় স্রোতের বেগ অত্যন্ত ধীর হয়ে যায়। ফলে নদীর সাথে বাহিত পলি, বালু ও কাদা নদীর মোহনায় জমতে থাকে। কালক্রমে এই পলি জমাট বেঁধে পানির ওপরে চরের সৃষ্টি করে। নদীর মোহনায় বিভিন্ন শাখার মধ্যবর্তী স্থানে জমে ওঠা এই পলিসমৃদ্ধ সমভূমি দেখতে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) বা বাংলা 'ব' অক্ষরের মতো হয় বলে একে ব-আকৃতির সমভূমি বা বদ্বীপ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' অঞ্চলটি হলো প্লাইস্টোসিনকালের বরেন্দ্রভূমি অঞ্চল, যা বাংলাদেশের বৃহত্তম সোপান অঞ্চল এবং এর মাটির রং ধূসর ও লালচে।
বর্ণনা:
১. অবস্থান ও বিস্তার: প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের প্লাইস্টোসিন যুগের আন্তঃবরফ যুগে বরেন্দ্রভূমির সৃষ্টি হয়। এটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
২. ভূপ্রকৃতি ও উচ্চতা: এই অঞ্চলটি সংলগ্ন প্লাবন সমভূমি থেকে প্রায় ৬ থেকে ১২ মিটার উঁচু। ভূমি সাধারণত কিছুটা ঢেউ খেলানো ও অনুর্বর।
৩. মৃত্তিকা: বরেন্দ্রভূমির মাটি অত্যন্ত আঠালো, কর্দমাক্ত এবং এতে লোহার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে এর রং লালচে এবং কোনো কোনো স্থানে ধূসর বর্ণের দেখা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্দম ও বেলে পাথরের মিশ্রণে গঠিত 'ক' অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ (বিশেষত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়)। বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতিতে এই অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. বনজ সম্পদ: টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলোতে সুবিশাল চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী বনভূমি রয়েছে। এখান থেকে মূল্যবান কাঠ, বাঁশ, বেত ও ওষধি গাছ পাওয়া যায়, যা দেশের বনজ সম্পদের প্রধান উৎস।
২. খনিজ সম্পদ: এই অঞ্চলের মাটির নিচে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও খনিজ তেলের সন্ধান রয়েছে (যেমন- সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাসক্ষেত্রসমূহ)।
৩. চা ও জুম চাষ: পাহাড়ের ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখানে দেশের সিংহভাগ চা বাগান গড়ে উঠেছে। এছাড়া স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জুম চাষ ও বিভিন্ন ফলমূল (আনারস, কলা, কমলা ইত্যাদি) উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে।
৪. জলবিদ্যুৎ ও পর্যটন: কর্ণফুলী নদীর খরস্রোতা রূপ ব্যবহার করে কাপ্তাইয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। তাছাড়া রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও জাফলং ইত্যাদি এলাকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেশের পর্যটন শিল্পের মূল ভিত্তি।
সুতরাং, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে 'ক' অঞ্চলের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও