যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

তথ্য-১: সকল মানুষ হয় মরণশীল, ∴\therefore কোনো মানুষ নয় অমরণশীল। তথ্য-২: সকল দার্শনিক হয় প্রজ্ঞাবান সক্রেটিস হয় একজন দার্শনিক ∴\therefore সক্রেটিস হয় প্রজ্ঞাবান।

  1. ক)

    মাধ্যম অনুমান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অমাধ্যম অনুমান কি প্রকৃত অনুমান? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তথ্য-১ কোন ধরনের অনুমানকে নির্দেশ করে? বিস্তারিত লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    তথ্য-১ ও ২ এর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অবরোহ অনুমানে দুই বা ততোধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে মাধ্যম অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অমাধ্যম অনুমান একটি প্রকৃত অনুমান কিনা তা নিয়ে যুক্তিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যুক্তিবিদ মিল ও বেইনের মতে, অমাধ্যম অনুমানে কোনো নতুন সত্য আবিষ্কৃত হয় না, কেবল একই বক্তব্য নতুন আকারে প্রকাশ পায়; ফলে এটি কোনো প্রকৃত অনুমান নয়। তবে অ্যারিস্টটল ও অন্যান্য অনেক যুক্তিবিদের মতে, অমাধ্যম অনুমানে একটি প্রদত্ত বাক্য থেকে নতুন রূপ ও অর্থদ্যোতক সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় যা মানসিক প্রক্রিয়া ও যুক্তিনির্ভর। তাই একে যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিতে একটি অবরোহমূলক ও প্রকৃত অনুমান হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্য-১ ‘অমাধ্যম অনুমান’ (বিশেষ করে ‘প্রতিবর্তন’ বা Obversion)-কে নির্দেশ করে।

    যে অবরোহ অনুমানে কোনো মধ্যম পদ বা তৃতীয় যুক্তিবাক্য ব্যতিরেকে সরাসরি একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়, তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে। প্রতিবর্তন হলো এমন এক প্রকার অমাধ্যম অনুমান যেখানে আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় করা হয় এবং গুণের পরিবর্তন ঘটে কিন্তু পরিমাণের কোনো পরিবর্তন হয় না।

    তথ্য-১ এ দেখা যায়:
    আশ্রয়বাক্য: সকল মানুষ হয় মরণশীল (A যুক্তিবাক্য)
    সিদ্ধান্ত: কোনো মানুষ নয় অমরণশীল (E যুক্তিবাক্য)
    এখানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়েছে এবং সদর্থক গুণকে নঞর্থকে রূপান্তরিত করে বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদ ব্যবহার করা হয়েছে। অতএব, এটি স্পষ্টতই অমাধ্যম অনুমানের অন্তর্গত প্রতিবর্তন রূপকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্য-১ এবং তথ্য-২ যুক্তিবিদ্যার যথাক্রমে ‘অমাধ্যম অনুমান’ ও ‘মাধ্যম অনুমান’ এর দুটি স্বতন্ত্র দৃষ্টান্ত। এদের তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. আশ্রয়বাক্যের সংখ্যা: তথ্য-১ এ কেবল একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে, যা অমাধ্যম অনুমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে, তথ্য-২ এ দুটি আশ্রয়বাক্যের সমন্বয়ে একটি সিদ্ধান্ত গঠিত হয়েছে, যা মাধ্যম অনুমানের দৃষ্টান্ত।
    ২. মধ্যম পদের ভূমিকা: তথ্য-১ এ কোনো মধ্যম পদের উপস্থিতি নেই; সরাসরি উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্পর্কের রূপান্তর ঘটেছে। কিন্তু তথ্য-২ এ ‘দার্শনিক’ পদটি মধ্যম পদ হিসেবে কাজ করে দুটি আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে এবং সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থেকেছে।
    ৩. জটিলতা ও প্রামাণিকতা: তথ্য-১ এর যুক্তিপ্রক্রিয়া সরল ও সরাসরি বাক্য রূপান্তর মাত্র। অপরদিকে, তথ্য-২ এর মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত নিরপেক্ষ সহানুমান (Syllogism) প্রদর্শিত হয়েছে, যা তুলনামূলক জটিল এবং সম্পূর্ণ নতুন সিদ্ধান্তের প্রতি ইঙ্গিত করে।

    পরিশেষে বলা যায়, উভয়ই অবরোহ অনুমানের প্রকারভেদ হলেও তথ্য-১ অমাধ্যম অনুমান (প্রতিবর্তন) এবং তথ্য-২ মাধ্যম অনুমানের (সহানুমান) উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন